শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) দেশের আটটি ব্রোকারেজ হাউজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, কারণ তারা নিট সম্পদমূল্য (NAV) ঘাটতি নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছিল। আইন অনুযায়ী এটি ট্রেক বিধিমালা ২০২০-এর গুরুতর লঙ্ঘন। তালিকার মধ্যে রয়েছে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের মালিকানাধীন মোনার্ক হোল্ডিংস লিমিটেড।
তদন্তে যা পাওয়া গেছে
সম্প্রতি ডিএসই’র অনুরোধে পরিচালিত তদন্তে বিএসইসি এই অনিয়মগুলো চিহ্নিত করে। পরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-কে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে।
তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আটটি ব্রোকারেজ হাউজ তাদের পরিশোধিত মূলধনের ৭৫ শতাংশের বেশি নিট সম্পদ বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে, যা বিধি ৭(৪) অনুযায়ী বাধ্যতামূলক। এই কারণে তাদেরকে আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তালিকায় কোন ব্রোকারেজ হাউজগুলো রয়েছে?
নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব ব্রোকারেজ হাউজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা হলো—
মোনার্ক হোল্ডিংস লিমিটেড
মীর সিকিউরিটিজ লিমিটেড
কলম্বিয়া শেয়ারস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড
উইংসফিন লিমিটেড
ফারিহা সিকিউরিটিজ লিমিটেড
অ্যাসুরেন্ট সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড
ম্যাট্রিক্স সিকিউরিটিজ লিমিটেড
তাসিয়া সিকিউরিটিজ লিমিটেড।
নিয়ম মানতে ব্যর্থ হলে কী শাস্তি হতে পারে?
বিএসইসির মতে, এই নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করলে বাজারে স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং বিনিয়োগকারীর অর্থ সুরক্ষিত হয়। নিয়ম অনুযায়ী, শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে ট্রেক সার্টিফিকেট বাতিলের বিধান রয়েছে।
উল্লেখ্য, মোনার্ক হোল্ডিংস লিমিটেডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, আর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কাজী সাদিয়া হাসান, যিনি সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক আবুল খায়ের হিরুর স্ত্রী। এছাড়া মীর সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান মীর নাসির হোসেনও আলোচনায় আছেন।


