নীতি সুদহার কমিয়ে তারল্য বাড়াতে উদ্যোগ, শেয়ার ও অর্থবাজারে ইতিবাচক সাড়া

সময়: বুধবার, জুলাই ১৬, ২০২৫ ৮:২৪:১০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: অর্থনীতিতে তারল্য বাড়ানো ও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ উৎসাহিত করতে নীতি সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সিদ্ধান্ত বুধবার (১৬ জুলাই) থেকে কার্যকর হচ্ছে, যা বাজারে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা দিয়েছে বিশেষ করে শেয়ার ও অর্থবাজারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মনিটারি পলিসি ডিপার্টমেন্ট মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এতে বলা হয়, আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার কার্যক্রমে গতি আনতে এবং তারল্য ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য বজায় রাখতে নীতি সুদহার বা রেপো রেট ৮.৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই পদক্ষেপের ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কম সুদে অর্থ ধার করতে পারবে, যা ব্যাংকগুলোর জন্য তহবিল সংগ্রহকে সহজ ও সাশ্রয়ী করে তুলবে। এর প্রভাব সরাসরি ঋণ গ্রহীতাদের ওপর পড়বে— সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা আরও কম সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন, যা বিনিয়োগ ও ভোগ খরচ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

স্থিতিশীল রাখা হয়েছে করিডোরের ঊর্ধ্বসীমা
এছাড়া নীতি সুদহার করিডোরের ঊর্ধ্বসীমা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। স্ট্যান্ডিং ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) সুদহার ১১.৫০ শতাংশ এবং ওভারনাইট রেপো নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

ইতিবাচক প্রভাব ও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের অর্থনীতিতে অর্থপ্রবাহ বাড়বে, যা শেয়ারবাজার, ব্যাংক খাত ও উৎপাদনমুখী খাতে গতিশীলতা আনবে। বিশেষ করে যারা নতুন বিনিয়োগ করতে চায় বা ব্যবসা সম্প্রসারণে ঋণ নিতে আগ্রহী, তারা এখন কম খরচে অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে।

তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, অর্থ সরবরাহ ও ভোগ চাহিদা বাড়লে পণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিতে পারে। এতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য ভারসাম্য রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

Share
নিউজটি ১৬৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged