ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) রাইট শেয়ার ইস্যু নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। কোম্পানির স্বতন্ত্র পরিচালক মামুন রশিদ অবিক্রিত ২ লাখ ৫০ হাজার রাইট শেয়ার কেনার আগ্রহ প্রকাশ করায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং বাজারে নানা প্রশ্ন উঠছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) এ ঘোষণার পর বিনিয়োগকারীদের একাংশ দাবি করছে, রাইট শেয়ারের যোগ্যতা নির্ধারণে রেকর্ড ডেটের নীতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—শুধুমাত্র ওই তারিখে যাদের নাম তালিকাভুক্ত থাকবে তারাই রাইট শেয়ার পাওয়ার যোগ্য।
এক বিনিয়োগকারী শেয়ার নিউজকে জানান, রেকর্ড ডেটের বাইরে থেকে রাইট শেয়ার কেনার এই প্রস্তাব অন্যায্য। তার বক্তব্য, “ন্যাশনাল টি’র শেয়ারের দাম ডিএসইতে ওইদিন ছিল ১৯৫ টাকা। মামুন রশিদ যদি এই রাইট শেয়ার কিনতে পারেন, তবে প্রতিটি শেয়ারে প্রায় ৭৫ টাকা তাৎক্ষণিক লাভ করবেন। মোটে এই মুনাফা দাঁড়াবে প্রায় ১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। অথচ তিনি রেকর্ড ডেট অনুযায়ী যোগ্য নন।”
বিতর্কের জবাবে অর্থনীতিবিদ ও সাবেক ব্যাংকার মামুন রশিদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “২০২২ সালে রাইট শেয়ার ইস্যুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও পর্যাপ্ত সাবস্ক্রিপশন না পাওয়ায় প্রক্রিয়াটি শেষ করা যায়নি। অনেক চেষ্টা করেও আবেদন পূর্ণ হয়নি। তাই বিএসইসি এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে কয়েকজন পরিচালক অবিক্রিত শেয়ার কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছি। আমি শুধু ইচ্ছা প্রকাশ করেছি; অনুমোদন না পেলে কিনব না।”
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, “রাইট শেয়ার শুধুমাত্র রেকর্ড ডেটের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য প্রযোজ্য। তবে প্রস্তাবপত্রে স্পষ্ট উল্লেখ থাকলে পরিচালকরা অধিকার ত্যাগ করলে অন্যরা সেই শেয়ার নিতে পারেন। এনটিসির ক্ষেত্রে কী হয়েছে, তা যাচাই করা হবে।”
এনটিসির কোম্পানি সচিব এ কে আজাদ চৌধুরী দাবি করেছেন, বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) শেয়ারহোল্ডাররা অনুমোদন দিয়েছিলেন যে, অবিক্রিত রাইট শেয়ার পরিচালকরা কিনতে পারবেন। তার ভাষ্য, রেকর্ড ডেটের বিধান শুধুমাত্র সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য প্রযোজ্য, পরিচালকদের জন্য নয়।
তবে ২০২২ সালের ২০ অক্টোবরের ইজিএমে স্বতন্ত্র পরিচালকদের বিষয়ে আলাদা কোনো উল্লেখ ছিল না। সিদ্ধান্তে বলা হয়েছিল, পরিচালকরা আনুপাতিক হারে শেয়ার কিনতে পারবেন এবং এরপরও শেয়ার অবিক্রিত থাকলে অন্য বিনিয়োগকারীদের সুযোগ দেওয়া হবে।
রাইট শেয়ারের মাধ্যমে এনটিসি ব্যাংক ঋণ পরিশোধ, কার্যকরী মূলধন জোগান এবং চা বাগান ও কারখানা উন্নয়নের পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবর বিএসইসি নির্দেশ দেয়, সরকারের ৫১% শেয়ার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে না। অভিযোগ রয়েছে, সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে কোম্পানি ইতোমধ্যে ২৯ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করেছে।
২০২২ সালে বিএসইসি নির্দেশনা দেয় যে, সব তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ন্যূনতম ৩০ কোটি টাকা হতে হবে। এই শর্ত পূরণের জন্য এনটিসি রাইট শেয়ার ইস্যুর উদ্যোগ নেয়। বহুবার সময় বাড়ানোর পরও প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়নি। সর্বশেষ ১৩ আগস্ট চতুর্থ রাউন্ডের আবেদন শেষ হলেও কয়েক লাখ শেয়ার অবিক্রিত থেকে যায়।
গত বছরের এপ্রিল বিএসইসি এনটিসিকে অনুমোদন দেয় ২ কোটি ৩৪ লাখ রাইট শেয়ার ১১৯ টাকা ৫৩ পয়সা দরে (১০৯ টাকা ৫৩ পয়সা প্রিমিয়ামসহ) ইস্যু করার। এর মধ্যে সরকার, আইসিবি, সাধারণ বীমা কর্পোরেশন, স্পন্সর-পরিচালক ও সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য শেয়ার বরাদ্দ ছিল।


