নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অলিম্পিক এক্সেসরিজ লিমিটেড ন্যূনতম শেয়ার ধারণের শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটির স্পন্সর-পরিচালকদের হাতে রয়েছে মাত্র ২৫.৮১ শতাংশ শেয়ার, যেখানে আইন অনুযায়ী ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার ধরে রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এ অবস্থায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। কমিশনের ২০১৯ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে অলিম্পিক এক্সেসরিজের মালিকেরা কোনো শেয়ার বিক্রি, হস্তান্তর বা জামানত হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন না। পাশাপাশি তারা নতুন কোনো তহবিল সংগ্রহেও সীমাবদ্ধ থাকবেন।
বিএসইসি জানিয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে যদি কোম্পানির স্পন্সর-পরিচালকরা ন্যূনতম শেয়ার ধারণের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হন, তবে অলিম্পিক এক্সেসরিজকে আলাদা একটি ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তর করা হবে। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠান কোম্পানির কমপক্ষে ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ করবে, তাদের মধ্য থেকে একজন পরিচালককে বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার বিধান কার্যকর হতে পারে।
এছাড়া, যদি স্পন্সর-পরিচালকদের শেয়ার ধারণ ২৫.৮১ শতাংশের নিচে নেমে যায়, তবে তাদের ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও কমিশনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, অলিম্পিক এক্সেসরিজ ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে টানা পাঁচ বছর ধরে লোকসান গুনছে। সর্বশেষ ২০২৩ অর্থবছরে কোম্পানিটি সর্বোচ্চ ৩৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা লোকসান করেছে, যা শেয়ার প্রতি লোকসান (EPS) ২ টাকা ৩৩ পয়সা।
কোম্পানিটি সর্বশেষ ২০২১ অর্থবছরে মাত্র ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ (ক্যাশ ডিভিডেন্ড) ঘোষণা করেছিল। এরপর থেকে কোনো ডিভিডেন্ড দিতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটিকে বর্তমানে স্টক এক্সচেঞ্জের ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, টানা লোকসান এবং ন্যূনতম শেয়ার ধারণের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়া বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তারা মনে করছেন, বিএসইসির কড়া পদক্ষেপ বাজার শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


