শেয়ারবাজারে ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে মার্কেটকে স্থিতিশীল রাখতে গঠন করা হয়েছে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড (সিএমএসএফ)। কিন্তু মার্কেট স্থিতিশীল করা তো দূরের কথা সংস্থাটি বিনিয়োগকারীদের টাকা দিয়ে আরাম-আয়েশ করে খাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ব্যক্তিগতভাবে প্রতিমাসে বেতন তুলছেন সাড়ে ৪ লাখ টাকা। বাকি কর্মকর্তারা প্রতিমাসে প্রায় ১০ লাখ টাকা বেতন-ভাতা নিচ্ছেন। এমন অভিযোগ উঠেছে যে, এসব কর্মকর্তারা আওয়ামীলীগের ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল এবং তাদের চাকরির ইন্টারভিউ ছিল শুধুমাত্র লোক দেখানো।
ডিভিডেন্ড ডিস্ট্রিবিউশন এবং ডি-লিষ্টিং করার জন্য যেখানে বিএসইসি’র ভবনে একটি রুম স্পেসেই কাজ করা যায়- সেখানে এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিমাসে ১১ হাজার স্কয়ার ফিটের অফিস ভাড়া দিচ্ছে মাসে ৫ লাখ টাকা। যা সত্যিই আশ্চর্য্যজনক।
এ পর্যন্ত ১৩’শ কোটি টাকার ওপরে বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ডের টাকা সংগ্রহ করেছে সিএমএসএফ। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের প্রদান করেছে মাত্র ৬ কোটি টাকা। বাদ বাকি টাকা সুদে লাগিয়ে বিলাসিতায় জীবন-যাপন করছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।
এই ফান্ডের অর্থের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন কোম্পানিতে পড়ে থাকা বিনিয়োগকারীদের অবন্টিত ডিভিডেন্ডের টাকা। আর এই ডিভিডেন্ডের টাকা দিয়ে পরের মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে খাচ্ছে সিএমএসএফের কর্মকর্তারা।
সিএমএসএফের বর্তমান ডিসিসিআইয়ের যে অফিস রয়েছে সেটি ১১ হাজার স্কয়ার ফিটের অফিস। আর এই অফিস করতে ব্যয় করা হয়েছে ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এছাড়া গাড়ি ও এক্সেসরিজ বাবদ আরও ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। গেল দুই বছরে অফিস এক্সপেন্স হিসেবে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১০ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। যারা বোর্ড মিটিং করতেন তাদের সম্মানী বাবদ নেয়া হয়েছে ২ কোটি টাকারও বেশি। সবমিলিয়ে এক প্রকার হরিলুটের মতো অবস্থা তৈরি করা হয়েছে।
অথচ এগুলো সব বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ডের টাকা। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে বিনিয়োগকারীদের যে ডিভিডেন্ডের টাকা জমা হয়েছে- পরবর্তীতে কোন বিনিয়োগকারী ক্লেইম করলে সেই ডিভিডেন্ডের অর্থই (প্রিন্সিপাল এমাউন্ট) তারা পাবেন। অথচ এই অর্থ বিভিন্ন সেক্টরে বিনিয়োগ করে যে মুনাফা পাওয়া গেছে তা ফান্ডেই রাখা হবে। আর এই ফান্ডের টাকা নিজেদের ইচ্ছেমতো ব্যয় করবে ফান্ডের ব্যবহারকারীরা।
অবন্টিত মুনাফার প্রায় ১৩’শ কোটি টাকা বিভিন্ন সেক্টরে বিনিয়োগ করা হয়েছে। আইসিবি’তে এফডিআর, গোল্ডেন জুবিলী মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগসহ ক্যাশ ও স্টক ডিভিডেন্ড মিলিয়ে সিএমএসএফের ফান্ডের পরিমাণ ১ হাজার ২৪৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে আইসিবি’তে এফডিআর করা হয়েছে ২২৫ কোটি টাকা, কমিউনিটি ব্যাংকে ক্যাশ রয়েছে ২৮৪ কোটি টাকা এবং গোল্ডেন জুবিলী মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ রয়েছে ৫০ কোটি টাকা।
একটি ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড ম্যানেজ করতে বা ডিভিডেন্ড ডিস্ট্রিবিউশন ও ডি-লিষ্টের কাজ করতে ৫ জনের বেশি কর্মকর্তা লাগে না। এছাড়া ১৫’শ স্কয়ার ফিটের একটি অফিসই যথেষ্ট- যা বিএসইসির বিশাল ভবনে নিলেই হয়। কারণ, এই ১০ সদস্য বোর্ড পরিচালনায় ৫ জন মনোনীত পরিচালকের পাশাপাশি বাকি ৫জনই হচ্ছেন বিএসইসির প্রতিনিধি।
কিন্তু সিএমএসএফ একটি ভাড়া অফিসের পেছনে সাড়ে ৪ কোটি টাকার ওপরে ব্যয় করা হয়েছে- যা দিয়ে স্ট্যান্ডার্ড মানের একটি অফিসই ক্রয় করা যায়। এছাড়া, বিনিয়োগকারীদের অর্থ দিয়ে তারা কোথায় কি করছে, কিভাবে নিজেরা বেনিফিটেড হচ্ছে- জরুরি ভিত্তিতে তার তদন্ত করা উচিত।


