বিশেষ প্রতিবেদক: সরকার ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তন আসার কারণে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে বীমা খাতের কোম্পানিগুলো। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জীবন বীমা খাতের অন্তত দুটি কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে ইতিমধ্যে আবেদন করেছে।
চলতি সপ্তাহে এসব কোম্পানির বিষয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু অন্তর্র্বতীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রেক্ষাপটে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় শনিবার বিএসইসি’র চেয়ারম্যানের শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম পদত্যাগ করেন। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পাওয়া সালেহউদ্দিন আহমেদ শনিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সচিব ও বিভিন্ন স্বায়ত্তশাষিত সংস্থাগুলোর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
সেখানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক শিবলী। দিনের বেলা বৈঠক করে রাত ১১টার পরে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন তিনি। এর পরের দিন রোববার পদত্যাগ করেন সংস্থাটির দুই কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ ও রুমানা ইসলাম। ফলে বিএসইসির পাঁচ সদস্যের কমিশনের মধ্যে তিনজন পদত্যাগ করলেন। দায়িত্বে রয়েছেন কমিশনার মু. মোহসিন চৌধুরী ও এ টি এম তারিকুজ্জামান। এর মধ্যে মঙ্গলবার বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজকে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থায় এই বিরাট পরিবর্তনের ফলে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আবেদনকৃত কোম্পানিগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঝুলে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আবেদনকারী একটি কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, এ সপ্তাহেই কমিশন সভায় আমাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসার কথা ছিল। কিন্তু বিএসইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এখনই এ বিষয়ে তারা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না।
আইডিআরএ‘র সূত্রমতে, এই মুহূর্তে জীবন বীমা খাতের জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ও প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড আইপিও’র জন্য ছাড়পত্র নিয়েছে। এরমধ্যে দেশের চতুর্থ প্রজন্মের বিমা কোম্পানি জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুঁজিবাজার থেকে ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহের জন্য কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ১ কোটি ৫০ লাখ সাধারণ শেয়ার ইস্যু করবে। সংগৃহীত অর্থ দিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ, সরকারি ট্রেজারি বন্ডের জন্য ৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা, এফডিআরে বিনিয়োগের জন্য ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং আইপিওর জন্য ১ কোটি টাকা ব্যয় করবে।
২০১৩ সালের জুলাইয়ে জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে বাংলাদেশে জীবন বিমা ব্যবসা করার অনুমোদন দেয় বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। ওই বছরের আগস্টেই কোম্পানিটি ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেছে।
জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রসপেক্টাসে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটি ২৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা নিট প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে। এর আগের বছরে কোম্পানিটির নিট প্রিমিয়াম সংগ্রহ ছিল ৩০ কোটি ৩২ লাখ টাকা। ২০২৩ সালে কোম্পানিটির লাইফ ফান্ড ছিল ১৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকার। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ২২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
কোম্পানিটিকে পুঁজিবাজারে আনতে ইস্যু ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করবে প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। সম্প্রতি বীমা কোম্পানিটির প্রধান কার্যালয়ে উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি সই হয়েছে।
জেনিথ ইসলামী লাইফের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী। তার উপস্থিতিতেই জেনিথ ইসলামী লাইফের পক্ষে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম নুরুজ্জামান এবং প্রাইম ফাইন্যান্সের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রেজাউল হক চুক্তিতে সই করেন।
পুঁজিবাজারে আসতে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড ও স্ট্র্যাটেজিক ফাইন্যান্স লিমিটেডের সঙ্গে আইপিও ইস্যু ম্যানেজারস সংক্রান্ত একটি সমঝোতা চুক্তি করেছে প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান সামির সেকান্দার।


