পুঁজিবাজারে এতোটা চরম আস্থা সংকটে পড়েছে যে বিনিয়োগকারীরা একটু সুযোগ পেলেই শেয়ার ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। দু’তিন সূচকের উত্থান হলেই হাতে থাকা শেয়ার বিক্রির প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে নতুন বিনিয়োগ যা আসছে তা ব্যালেন্সড হচ্ছে না।
ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ার পর থেকে বিনিয়োগকারীরা এতোটা ক্ষতির মধ্যে পড়েছে যে নতুন বিনিয়োগ আসা মাত্র সেটি আবারও লোকসানে পড়ে যাচ্ছে। ব্যাপক পুঁজির ঘাটতিতে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। যে পরিমাণ বিনিয়োগ আসছে তার চেয়ে বেশি পরিমাণে পুঁজি বেরিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে আগামী ১৮ জুলাই মুদ্রানীতি ঘোষণা করার কথা রয়েছে। গেল বছর সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ব্যাংক ঋণের সুদহার উঠেছে প্রায় ১৫ শতাংশে। যদিও এর সুফল ঘরে তুলতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। গত অর্থবছরজুড়ে নানা উদ্যোগের কথা বলা হলেও কমেনি মূল্যস্ফীতি। উল্টো নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে বহু গুণ।
এ অবস্থায় ঋণের সুদহার আরো বাড়ানোর পথে হাঁটছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মুদ্রানীতির সঙ্গে পুঁজিবাজারের সম্পর্ক রয়েছে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও পুঁজিবাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জিডিপি প্রবৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, সুদহার, রফতানি প্রবৃদ্ধি এসব সূচক যদি আমাদের অনুকূলে না আসে, তাহলে পুঁজিবাজারের অবস্থা পরিবর্তন হবে বলে মনে হয় না। অর্থনীতি ঘুরে না দাঁড়ালে পুঁজিবাজার এগোবে না।
পুঁজিবাজারকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। বিদেশী অর্থায়নও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ ও পোর্টফোলিও বিনিয়োগ। আমাদের এখানে বিদেশী পোর্টফোলিও বিনিয়োগ নেই বললেই চলে। সুদের হার কমে আসার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি থেকে মুক্তি না মিললে বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে না। এছাড়া আগের তুলনায় বর্তমানে বিনিয়োগ করার মতো ভালো শেয়ারের সংখ্যা কমে গেছে। এর মানে বিনিয়োগ করার সুযোগ সংকুচিত হয়ে গেছে।
অন্যদিকে বর্তমানে গ্যাম্বলিং শেয়ারে বেশি বিনিয়োগ হচ্ছে। যে কারণে কারসাজি চক্র তাদের হাতে থাকা শেয়ার একবার পার্কিং করতে পারলেই আর দ্বিতীয়বার সেই শেয়ার টেনে তুলছে না। যে কারণে এমারেল্ড ওয়েল, ফরচুন সুজ, সি পার্ল ইত্যাদি কোম্পানিগুলো আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এর মধ্যে যেসব বিনিয়োগকারী আটকে গেছেন তাদের পুঁজি আর ফিরে না পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সবচেয়ে বড় কথা ক্রয়-বিক্রয়ের সামঞ্জস্যতা পাওয়া যাচ্ছে না। ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতার পরিমাণ বেশি। যে কারণে পুঁজিবাজার তার ভারসাম্য হারিয়েছে। এ অবস্থা থেকে বের হতে অবশ্যই বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন।


