পুঁজিবাজারে যৌথ উন্নয়ন উদ্যোগে নতুন অধ্যায় খুলল ডিএসই–ডিসিসিআই

সময়: মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৫ ৬:৩৯:৪৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে ডিএসই-এর পক্ষে চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম এবং ডিসিসিআই-এর পক্ষে প্রেসিডেন্ট তাসকিন আহমেদ স্বাক্ষর করেন। উভয় পক্ষই একে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও বেসরকারি খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে একটি “ঐতিহাসিক সহযোগিতা” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

? যৌথ উদ্যোগের লক্ষ্য: টেকসই পুঁজিবাজার গঠন
এই চুক্তির মাধ্যমে উভয় প্রতিষ্ঠান গবেষণা, প্রশিক্ষণ, নীতি প্রস্তাবনা, সচেতনতা কার্যক্রম ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করবে।
ডিএসইর পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (SMEs) পুঁজিবাজারে সম্পৃক্ত করতে একটি ডেডিকেটেড টিম গঠন করা হবে, যারা ডিসিসিআই-এর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করবে।

এ ছাড়া এসএমই উদ্যোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি, তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় সহায়তা এবং বাজারে নতুন পণ্য প্রবর্তনের উদ্যোগও এই চুক্তির অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হবে।

? ডিএসইর দৃষ্টিতে MoU: পুঁজিবাজারে গভীরতা বাড়ানোর পদক্ষেপ
অনুষ্ঠানে ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশের পুঁজিবাজার এখনো পর্যন্ত জাতীয় অর্থনীতির প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হয়নি। ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের বিকল্প হিসেবে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে এই সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি আরও বলেন,

“বাজারের গভীরতা বাড়াতে হলে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ও মান বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগ পণ্য প্রবর্তন এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।”

? ডিসিসিআই প্রেসিডেন্ট তাসকিন আহমেদের মন্তব্য
তাসকিন আহমেদ বলেন, “এই চুক্তি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি একটি যৌথ প্রতিশ্রুতি—যার মাধ্যমে আমরা বেসরকারি খাতকে আরও গতিশীল করতে, জ্ঞান ও উদ্ভাবনের আদান-প্রদান বাড়াতে এবং যৌথ গবেষণার মাধ্যমে অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারব।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমাদের অর্থনীতি এখনো ব্যাংকনির্ভর, কিন্তু পুঁজিবাজারের বিকাশ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই চুক্তি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য মূলধন সংগ্রহের নতুন পথ খুলে দেবে।

? ডিএসই কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, “দেশের জিডিপি ও বাজার মূলধনের অনুপাত এখনো অনেক কম। আগামী পাঁচ বছরে আমরা এমন একটি বাজার দেখতে চাই যা দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে আমূল বদলে দেবে।”

অন্যদিকে, পরিচালক রিচার্ড ডি রোজারিও বলেন, “পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতার জন্য মানসম্মত ও ফান্ডামেন্টালি শক্তিশালী কোম্পানি অত্যন্ত জরুরি। আমরা বিজিএমইএর সঙ্গে আলোচনায় আছি, এবং ডিসিসিআইয়ের সদস্য কোম্পানিগুলোকেও তালিকাভুক্ত করার ক্ষেত্রে সহায়তা কামনা করছি।”

?️ ডিসিসিআইয়ের ভূমিকা ও উদ্যোগ
ডিসিসিআই-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজিব এইচ চৌধুরী বলেন, “এই উদ্যোগ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (SMEs) জন্য একটি মাইলফলক। আমাদের লক্ষ্য হলো অ্যাপ-ভিত্তিক ট্রেডিং ও অনলাইন সুবিধার মাধ্যমে পুঁজিবাজারে সহজ প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা এমন একটি সিস্টেম তৈরি করতে চাই যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা বা যুক্তরাজ্যের মতো সহজে লেনদেন করা সম্ভব হবে।”

? যৌথ কমিটি গঠন
এই সমঝোতা স্মারকের কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য একটি Joint Working Group (যৌথ কার্যকরী কমিটি) গঠন করা হবে, যা গবেষণা, প্রশিক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি ও নীতি প্রস্তাবনা বাস্তবায়নে কাজ করবে।
কমিটি নিয়মিতভাবে বৈঠক করে যৌথ কর্মপরিকল্পনা ও অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে।

? পুঁজিবাজার উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় নতুন মাইলফলক
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর পুঁজিবাজারের উন্নয়ন, এসএমই কোম্পানির তালিকাভুক্তকরণ, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং নতুন আর্থিক পণ্য উদ্ভাবনের বিষয়ে ডিএসই ও ডিসিসিআইয়ের মধ্যে গুলশানে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আজকের চুক্তি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ, যা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে নীতি সহায়তা ও উদ্ভাবনী বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

 

Share
নিউজটি ৪৭ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged