পুঁজিবাজারে রিসেট বাটন চাপুন কিন্তু বিনিয়োগকারীদের ধ্বংস করে নয়

সময়: বুধবার, অক্টোবর ৯, ২০২৪ ১০:১৪:১৩ পূর্বাহ্ণ

সাধারণত মোবাইল ফোনে রিসেট বাটনে চাপ দিলে যা ইনস্টল করা হয়েছে তার মূল ফর্মে আবার ফিরে যাওয়া। অর্থাৎ মূল বিষয়ের সঙ্গে পরবর্তীতে কোন সেটিংস উলোট-পালট করলে সেটি বাদ হয়ে যায়। আর ফরম্যাট হলো তথ্য-উপাত্ত যা রয়েছে সব মুছে যাওয়া। প্রধান উপদেষ্টার রিসেট বাটনের অর্থ অনেকে না বুঝে নেতিবাচক মন্তব্য করছেন। কিন্তু দেশ উন্নয়নে রিসেট বাটনে চাপ দিয়ে সকল দুর্নীতিকে বিদায় করে নতুনভাবে এগিয়ে যেতে হবে-এমনই ছিল প্রধান উপদেষ্টার মূল কথা। দেশের বিভিন্ন সেক্টরের পাশাপাশি পুঁজিবাজারে রিসেট বাটন চাপ দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ ১৫ বছরের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির জঞ্জাল পরিষ্কার করতে বেশ তাড়াহুড়া করে কাজ করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। যাদের বিরুদ্ধেই বিগত সময়ের নানা অভিযোগ উঠে এসেছে তাদের বিপুল পরিমাণ অর্থদন্ড থেকে শুরু করে গ্রেপ্তার পর্যন্ত করা হচ্ছে। যদিও শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিএসইসির এই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তে বেশ মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে পুঁজি হারিয়ে নি:স্ব হওয়ায় বিএসইসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগে রাস্তায়ও নেমেছেন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা।
কিন্তু সেদিকে কোন কর্ণপাত না করে শেয়ারবাজারকে জঞ্জালমুক্ত করতে নিজেদের সিদ্ধান্ত অটল রয়েছে বিএসইসি।

গতকাল শেয়ারবাজার উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মানের সুশাসন নিশ্চিত করতে ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে পাঁচ সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আজ আবার দেশের শীর্ষ ৩টি গ্রুপের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে বিএসইসি চেয়ারম্যান। মেঘনা গ্রুপ, সিটি এবং পিএইচপি গ্রুপের অধীনে থাকা শক্তিশালী কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দেশের পুঁজিবাজারে সংস্কার, উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে অচিরেই বিনিয়োগকারীরা একটি স্বচ্ছ, গতিশীল এবং আধুনিক পুঁজিবাজার পাবেন বলে আশা করছে বিএসইসি।

গত ১৮ আগস্ট শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। তিনি দায়িত্ব গ্রহণকালে শেয়ারবাজারের সূচক ছিল ৫৭৭৮.৬৪ পয়েন্ট। বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ১ হাজার ৭৮ কোটি ২৮ লাখ ৬২ হাজার টাকা। আজ ৮ অক্টোবর শেয়ারবাজারের সূচক দাঁড়িয়েছে ৫৩২৩.২২ পয়েন্ট। বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬৬ হাজার ৩০১ কোটি ৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা। অর্থাৎ বিএসইসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের সময়কালে এখন পর্যন্ত শেয়ারবাজারের মূলধন কমেছে ৩৪ হাজার ৭৭৭ কোটি ২১ লাখ ৮১ হাজার টাকা।

বাজারের এই অবস্থায় ইতিমধ্যে হারিয়ে গেছেন অনেক বিনিয়োগকারী। যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে বিনিয়োগকারীরা ধ্বংস হয়ে যাবেন এটা নিশ্চিত। তাই পুঁজিবাজারের রিসেট বাটন চাপুন। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের ধ্বংস করে নেয়। কারণ শেয়ারবাজার অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর এই গুরুত্বপূর্ণ অংশের প্রাণই হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।

Share
নিউজটি ৩৭২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged