পুঁজিবাজার কোন ক্লিয়ার মেসেজ পাচ্ছে না

সময়: বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৪ ৫:৪৮:২১ অপরাহ্ণ

আবারও টানা পতনে পড়েছে শেয়ারবাজার। কিন্তু দৈনিক লেনদেন ও হাতবদলের শেয়ার সংখ্যা কমেছে। তবে যে ভাবে সূচকের বৃদ্ধি পেয়েছে সেই অনুযায়ী বাড়েনি শেয়ার দর। তবে বিতর্কিত ও গেম্বলিং শেয়ারের দর বৃদ্ধি ছিলো চোখে পড়ার মতো।
খান ব্রাদার্স, নর্দান জুট, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, গ্লোবাল হেভি ক্যামিকেল, ইয়ানিক পলিমার, জুট স্পিনার্স, বিকন ফার্মাসহ বেশকিছু উৎপাদনহীন, স্বল্প মূলধনী ও দুর্বল মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর বৃদ্ধিতে শীর্ষ ভূমিকা পালন করছে।
অন্যদিকে ১০ ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার পথে রয়েছে- বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের এমন বক্তব্যের পর ব্যাংকখাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এছাড়া ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোতে রাজনৈতিক ইস্যুতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। অর্থাৎ কোম্পানির মৌলভিত্তি স্ট্রং হওয়া স্বত্ত্বেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোন না কোনভাবে সম্পৃক্ততা থাকলেই বিনিয়োগকারীরা সেসব কোম্পানিতে সতর্কতা অবলম্বন করছেন।
তারওপর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চলমান তদন্ত বড় বড় ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) সামগ্রিক পুঁজিবাজারের মঙ্গলের চেয়ে নিজের সুবিধাটাই বড় করে দেখছে। যে কারণে বর্তমান শেয়ারবাজারের উত্থান-পতনে আইসিবি মূল ভূমিকা পালন করছে।
একটি শেয়ারবাজার কখনোই কোন একক প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে চলতে পারে না। গেল কয়েকদিনের বাজার চিত্র অনুযায়ী দেখা যায়, শীর্ষ ২০ সিকিউরিটিজ হাউজের ভূমিকা তেমনটা ছিল না। প্রতিটি হাউজেই বড় বড় বিনিয়োগকারী থাকে যারা মার্জিন ঋণ কিংবা ক্যাশের মাধ্যমে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করে। তাদের লেনদেনের ওপর গোটা শেয়ারবাজারের গতি চলতে থাকে। তারা যদি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও আতঙ্কে পড়ে যান। আর আতঙ্ক তৈরি হলেই অতিরিক্ত সেল প্রেসার বৃদ্ধি পায়।
বর্তমান শেয়ারবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যে পুঁজি হারাচ্ছেন তা নয়; বড় বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিওতে রয়েছে নেতিবাচক প্রভাব। সবমিলিয়ে এ বাজারে কেউই ভালো নেই। তবে ডে-ট্রেডার হিসেবে যারা কাজ করছেন তারা ঠিকই পতনের বাজারে শেয়ার কিনে একটু বাড়লেই বিক্রি করে দিচ্ছেন। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আসছে না বললেই চলে। আর নতুন কমিশন শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ আনার চেয়ে অপরাধ দমনেই বেশি ব্যস্ত সময় পার করছেন।
অপরাধ দমন হোক সেটাই সবাই চায়। কিন্তু শেয়ারবাজারের মতো সেন্সিসেটিভ জায়গায় সবকিছুই ব্যালেন্সড করে চলতে হবে। বিএসইসির বাইরের অপরাধী খোঁজার পাশাপাশি নিজের ভেতরের কর্মকর্তাদেরও অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তে কাজ করছে। এটি খুবই ভালো উদ্যোগ; যার বিষয়ে আমরা শুরু থেকেই বলে আসছিলাম। কিন্তু ব্যালেন্সড করে না চললে এই পুঁজিবাজার বেশিদিন টিকবে না। শেয়ারবাজারের মন্দাবস্থা কাটাতে কমিশনকে পদক্ষেপ নিতে হবে। যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে এই শেয়ারবাজার থাকবে কিন্তু বিনিয়োগকারীরা পথের ফকির হয়ে যাবেন।

Share
নিউজটি ২৪৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged