প্রভিশন ঘাটতি সাড়ে তিন হাজার কোটি: আইসিবির আর্থিক সংকট গভীরতর

সময়: সোমবার, ডিসেম্বর ১, ২০২৫ ১:০২:২৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ সংস্থা ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) তাদের বিনিয়োগ পোর্টফোলিও ক্রয়মূল্যে মূল্যায়ন করায় প্রকৃত লোকসান আর্থিক প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হচ্ছে না। চলতি বছরে প্রতিষ্ঠানটির নিরীক্ষক জানিয়েছেন, বিনিয়োগের বাজারদর বাদ দিয়ে ব্যয়মূল্যে হিসাব করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ‘নো অবজেকশন’ দিয়ে আইসিবিকে ছাড় দিয়েছে।

 

নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত আইসিবির শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের মোট ক্রয়মূল্য ছিল ১৪ হাজার ১৭১ কোটি টাকা। কিন্তু সেসব সম্পদের বর্তমান বাজারদর নেমে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, শুধু পুঁজিবাজারে বিনিয়োগেই প্রায় ৪ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার অবমূল্যায়ন আইসিবির ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক বিবরণীতে অনুল্লেখিত থেকে গেছে।

 

যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক আইসিবিকে প্রকৃত বাজারমূল্য প্রতিফলনের বাধ্যবাধকতা শিথিল করেছে, সেখানে বাজার নিয়ন্ত্রক বিএসইসি চলতি অর্থবছরের শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিকে আংশিক প্রভিশন রাখার অনুমতি দিয়েছে। এখন পর্যন্ত আইসিবি শেয়ারবাজারসংক্রান্ত বিনিয়োগের বিপরীতে মাত্র ১ হাজার ৪৬ কোটি টাকা প্রভিশন গঠন করেছে। ফলে এই খাতে প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকায়।

 

এই অবস্থায় আইসিবি যে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার লোকসান দেখিয়েছে, বাস্তবে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক চাপ তার চেয়ে অনেক বেশি—এ কথা স্বীকার করছেন প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই। তাদের দাবি, নিয়ন্ত্রকদের দেওয়া ছাড়ের কারণেই পূর্ণ প্রভিশন বাধ্যতামূলক নয়।

 

এত বিপুল লোকসান থেকে উত্তরণের সম্ভাবনা সম্পর্কে তারা বলেন, শেয়ারবাজারে যদি শক্তিশালী উন্নয়ন ঘটে, তবেই এই লোকসানের বোঝা উল্লেখযোগ্য হারে কমানো যেতে পারে। তাদের ভাষায়, “বাজার সহায়ক না হলে কোনো ব্যবস্থাপনাই পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দিতে পারবে না।” সাম্প্রতিক সময়ে সূচক সামান্য বাড়ায় আইসিবির গোপন থাকা ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমেছে বলেও জানা গেছে।

 

আইসিবির হিসাব অনুযায়ী, প্রধান সূচক প্রতিটি পয়েন্ট বাড়লে কোম্পানির প্রভিশন চাহিদা কমে প্রায় ১৩৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ, সূচক ১০০ পয়েন্ট বাড়লে প্রায় ১ হাজার ৩৮০ কোটি টাকার প্রভিশন চাপ হ্রাস পাবে। অভ্যন্তরীণ সূত্র আরও জানায়, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বাজারমূল্যের ভিত্তিতে যে ক্ষতি লুকায়িত রয়েছে, তার বিপরীতে কোনো প্রভিশন বরাদ্দ করা হয়নি।

Share
নিউজটি ৫২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged