কোলাটারাল ড্যামেজের নামে পথে বসে যাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা

প্রয়োজনে শেয়ারবাজার বন্ধ রেখে সংস্কার করুন

সময়: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২২, ২০২৪ ১১:৪৫:২০ পূর্বাহ্ণ

রাষ্ট্র সংস্কারের জোয়ারের পানি শেয়ারবাজারেও এসে পড়েছে। বিএসইসি থেকে শুরু করে ডিএসই’তে পদত্যাগের ছড়াছড়ি দেখা গেছে। এছাড়া শেয়ার কারসাজিতে জড়িত থাকার অভিযোগে ব্যাংক হিসাব জব্দসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিপত্তি বেঁধেছে শেয়ারবাজারের টানা পতন।

পতনের মাত্রা এমনভাবে বাড়ছে যে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা আরও ক্ষতির মুখে পড়ে যাচ্ছেন। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের ছত্রছায়ায় যারা শেয়ার ব্যবসায় আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছে, তারা বাজারকে অস্থির করে তুলছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকে বলছেন, সংস্কার করতে হলে কোলাটারাল ড্যামেজ হতেই পারে। কিন্তু এই ড্যামেজ বা ক্ষতির মধ্যে পড়ে পথে বসে যাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। যেভাবে পুঁজিবাজার চলছে তাতে এ বাজার টিকবে না।

সংস্কার করুন আর যাই করুন শেয়ারবাজার বন্ধ রেখে করুন। যেভাবে সূচকের পতন আর শেয়ারের দর কমছে তাতে খুব বেশিদিন লাগবে না বিনিয়োগকারীদের রাস্তায় নেমে আসতে। কারণ এ বাজারে সব পেশাজীবিদেরই কম-বেশি বিনিয়োগ রয়েছে। প্রশ্ন যখন পুঁজি হারানো তখন চারিদিকে বিভিন্ন ইস্যুর চলমান আন্দোলনের জোয়ারে বিনিয়োগকারীদেরও শামিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শেয়ারবাজার এমনই এক সেন্সেটিভ জায়গা যা দেশের অন্য কোন সেক্টরের সঙ্গে মেলালে হবে না। এ বাজার সম্পর্কে যেকোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সবকিছু চিন্তা-ভাবনা করে নিতে হয়। হুট-হাট পদত্যাগে বাধ্য করা, হিসাব জব্দ ইত্যাদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কৌশলী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। কারণ প্রত্যেকেই তাদের ব্যাংক হিসাবে সেই পরিমাণ অর্থই রাখে যা ট্যাক্স ফাইলে দেখানো যায়। আর ট্যাক্স ফাইলে তাই দেখানো হয় যার উৎস সম্পর্কে ক্লিয়ার ডাটা তাদের হাতে থাকে।

তাই শুধুমাত্র ব্যাংক হিসাব জব্দ করলে সমস্যার কোন সমাধান আসবে না। আইনী প্রক্রিয়ায় তারা খুব সহজেই বেরিয়ে আসবে। আর ক্ষমতা, বাহুবল দিয়ে আর যাই হোক বেশিদিন টিকে থাকা যায় না। আজকে আপনি যাকে আঘাত করবেন কাল তা আপনার দিকেই আবার ফিরে আসবে। তাই দোষীদের বিরুদ্ধে কৌশলী পদক্ষেপ নিতে হবে।

যাতে সামগ্রিক পুঁজিবাজারের কোন ক্ষতি না হয়। গুজব আর আতঙ্ক বজায় থাকলে সে বাজারে কখনো আস্থা ফিরে আসে না। বাজারকে ধরে রাখতে হলে আইসিবি, লংকাবাংলা, আইডিএলসিসহ বড় বড় হাউজের সঙ্গে বৈঠক করতে হবে। তাদেরকে মার্কেট মেকারের দায়িত্ব দিতে হবে। বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনা-বেচা করবে যার যার ইচ্ছেমতো। একটি গতিশীল ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে পারলে এই বাজারে ২ হাজার কোটি টাকার নিত্য লেনদেন হওয়া কোন বিষয়ই না।

Share
নিউজটি ২২৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged