নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে ২৮৭ কোটি তোলার চেষ্টা ব্যর্থ করলো বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এইচ বি এম ইকবাল বনানী শাখায় জমাকৃত বিপুল অঙ্কের টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করেছিলেন। তবে আগে থেকেই হিসাবগুলোতে লেনদেন স্থগিত থাকায় শেষ পর্যন্ত অর্থ তোলা সম্ভব হয়নি।
ব্যাংক সূত্র জানায়, ইকবাল ও তার পরিবারের মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে প্রিমিয়ার ব্যাংকের বনানী শাখায় কয়েকশ কোটি টাকা জমা ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় সাড়ে ৩০০টি চেক জমা দেওয়া হয় ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক এবং মার্কেন্টাইল ব্যাংকে। প্রতিটি চেকের মাধ্যমে প্রায় ৮০ লাখ টাকা করে উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু বিএফআইইউর নজরদারির কারণে টাকা তোলা সম্ভব হয়নি।
প্রিমিয়ার ব্যাংকের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক মৌখিকভাবে আগে থেকেই এই হিসাবগুলোর লেনদেন বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছিল। ফলে অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২3 সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক ইকবাল, তার স্ত্রী–সন্তান এবং তাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে। এরপরও ২০২4 সালের এপ্রিলে ইকবাল প্রায় ১ কোটি ১১ লাখ টাকা এবং ৩০ হাজার মার্কিন ডলার উত্তোলন করেন। এ ঘটনায় প্রিমিয়ার ব্যাংককে সমপরিমাণ টাকা ও ডলার জরিমানা করে বিএফআইইউ।
প্রিমিয়ার ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই চেয়ারম্যান ছিলেন এইচ বি এম ইকবাল। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি পদ ছাড়েন এবং তার ছেলে ইমরান ইকবাল চেয়ারম্যান হন। কিন্তু গত আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রিমিয়ার ব্যাংকের বোর্ড ভেঙে দিয়ে নতুন পর্ষদ নিয়োগ করে। এর ফলে ইকবাল পরিবারের নিয়ন্ত্রণ থেকে ব্যাংকটি মুক্ত হয়।


