সাপ্তাহিক লেনদেনে শীর্ষে ফু-ওয়াং ফুড

ফু-ওয়াং ফুডসের এমডির বিরুদ্ধে অর্থ লোপাটের অভিযোগ

সময়: রবিবার, এপ্রিল ৬, ২০২৫ ২:০৫:০১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: উৎপাদন প্রায় বন্ধের পথে রয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ফু-ওয়াং ফুডসের। যে কারণে বেতন-ভাতা না পাওয়ায় কোম্পানিটির শ্রমিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেও পরিবেশকদের অর্থ আত্মসাৎ এবং সরবরাহকারীদের বকেয়া পরিশোধ না করায় কোম্পানিটির দায়-দেনা ক্রমেই বাড়ছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি কার্যত বন্ধ হওয়ার অবস্থায় পৌঁছেছে।

ফু-ওয়াং ফুডস প্রায় ৫৬টি খাদ্যপণ্য উৎপাদন করে, যার মধ্যে কেক, বিস্কুট ও বান উল্লেখযোগ্য। এসব পণ্যের বাজারে চাহিদা থাকলেও ৯ ফেব্রুয়ারি এক অফিস আদেশে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও তখন বলা হয়েছিল, ২৮ মার্চ পর্যন্ত দুই শিফটে উৎপাদন চলবে, বাস্তবে তা অধিকাংশ সময়ই বন্ধ ছিল।

তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে ফু-ওয়াং ফুডসের উৎপাদন সীমিত করার বিষয়টি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও স্টক এক্সচেঞ্জগুলিকে জানানো বাধ্যতামূলক হলেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ তা করেনি।

মার্চ মাসে শ্রমিক-কর্মচারীরা বেতন না পাওয়া ও চাকরি হারানোর আশঙ্কায় দুই দফা রাস্তায় বিক্ষোভ করেন। কোম্পাানিটির এক শ্রমিক জানান, “বেতন তো পাইই না, প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকাও এখনও মেলেনি। সবকিছু আত্মসাৎ করা হয়েছে।”

রাজধানীর বনানীর ফু-ওয়াং টাওয়ারে গিয়ে দেখা গেছে, পাওনাদার পরিবেশক ও ডিলারদের আতঙ্কে অফিসের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছেন কর্মকর্তারা। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিয়া মামুন সেখানে অনুপস্থিত। তিনি কোথায় আছেন, সে খবরও কেউ দিতে পারেননি।

শ্রমিক-কর্মচারী, ক্ষতিগ্রস্ত সরবরাহকারী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করছেন—এমডির অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির কারণে কোম্পানিটি প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তারা কোম্পানিটিকে রক্ষার জন্য বিএসইসি ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Share
নিউজটি ২২৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged