নিজস্ব প্রতিবেদক: চূড়ান্ত বাজেটের পর বাজার মোটামুটি ভালো আচরণ করছে। বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তাদের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা হওয়ায় সূচক বৃদ্ধি ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু যে হারে সূচক বৃদ্ধি পাচ্ছে সে হারে বাড়ছে না শেয়ার দর। অন্যদিকে সূচকের কারেকশন হলেই লোকসানের পরিমাণ আগের চেয়েও অনেক বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে ফোর্সসেলের আতঙ্কে পড়েছেন মার্জিন ঋণের বিনিয়োগকারীরা।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত সাড়ে তিন বছরের মধ্যে গেল ১১ জুন সূচক ৫ হাজার ৭০’এ অবস্থান করে সেখান থেকে আবার উত্থান শুরু হয়। এর আগে ২০২০ সালের ৮ ডিসেম্বর সূচক ৫ হাজার ৪৯ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১০ অক্টোবর ২০২১ পর্যন্ত ৭ হাজার ৩৬৭ পর্যন্ত উন্নীত হয়। এরপর থেকে সূচক পড়তে পড়তে সর্বশেষ ৫ হাজার ৭০’এ অবস্থান করে। সেখান থেকে আবারও সূচক বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৫৫৫৮’তে অবস্থান করছে।
বর্তমানে যেগুলো ভালো শেয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হয় গত ১৪ কার্যদিবসে সূচক প্রায় ৫০০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেলেও উল্লেখিত কোম্পানির শেয়ার দর বৃদ্ধি ছিল হতাশাজনক।
৪জি স্পিডে সূচক বাড়লেও দীর্ঘদিন ইক্যুইটি মাইনাসে পড়ে থাকা পোর্টফোলিও’র লোকসান কমেছে ১জি গতিতে। যার ফলে যেসব হাউজ তাদের পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য মার্জিন ঋণের বিনিয়োগকারীদের তাগাদা দিতেন তারাও ঊর্ধ্বমুখী বাজারের সুযোগ নিয়ে ফোর্সসেলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আর সেই আতঙ্কে নতুন করে বিনিয়োগ করারও ভরসা পাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা। কারণ সূচকের সামান্য পতনে শেয়ার দরে যে হারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সূচকের ব্যাপক উত্থানেও সেই নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে উঠা যায় না।
এ ব্যাপারে বিভিন্ন সিকিউরিটিজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করলে তারা জানান, পুঁজিবাজারে বর্তমানে ব্যাপক আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে।
কারসাজি চক্রের দৌরাত্মে কেউ এখন আর আগের মতো বাজারের প্রতি ভরসা পাচ্ছেন না। যার ফলে নতুন বিনিয়োগ আসছে না। আর নতুন বিনিয়োগ না আসলে শেয়ারের দর বৃদ্ধিতেও তেমনটা প্রভাব পড়ে না। এক্ষেত্রে সূচক যে হারে বৃদ্ধি পায় সে হারে শেয়ার দর বৃদ্ধি পায় না। তাই বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণে নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করতে হবে বলে মনে করেন তারা।
শেয়ারবাজার২৪


