নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম কার্যদিবসেই দেশের পুঁজিবাজারে দেখা গেল ইতিবাচক গতিধারা। দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল অবস্থানে থাকা শেয়ারবাজার আজ বুধবার (০২ জুলাই) সূচক ও লেনদেন—দুই দিক থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রবণতা পুঁজিবাজারের জন্য শুভ বার্তা বয়ে আনতে পারে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)—উভয় বাজারেই সূচকের উত্থান দেখা গেছে। বিশেষ করে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আজ ২৬.৯৪ পয়েন্ট বা ০.৫৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪,৮৬৫.৩৩ পয়েন্টে, যা বিগত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক গতি।
ডিএসইর অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ৫.০৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,০৬৫.৭৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক বেড়েছে ১.৭৩ পয়েন্ট, যা গিয়ে ঠেকেছে ১,৮১৭.৬৯ পয়েন্টে।
আজ ডিএসইতে মোট ৩৯৭টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২৭৭টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, ৬৯টির কমেছে, এবং ৫১টি অপরিবর্তিত রয়েছে। এই সংখ্যাগুলো বাজারে ক্রয়চাপ ও বিনিয়োগ আস্থার পুনঃফেরার ইঙ্গিত দেয়।
লেনদেনের দিক থেকেও আজ কিছুটা অগ্রগতি দেখা গেছে। ডিএসইতে ৪৭৯ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগেরদিনের ৪৬৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকার তুলনায় ১৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বেশি। এ লেনদেন গত কয়েকদিনের গড় লেনদেনের তুলনায় ভালো।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-তেও আজ সূচকের ভালো উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। বাজারের সার্বিক সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৯৩.১৯ পয়েন্ট, যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৩,৫৩১.৫৭ পয়েন্টে। তবে লেনদেনে দেখা গেছে কিছুটা ভাটা—আজ সিএসইতে লেনদেন হয়েছে মাত্র ৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকার, যেখানে আগেরদিন লেনদেন হয়েছিল ২৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার।
সিএসইতে আজ ২১০টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৪৩টির দর বেড়েছে, ৪২টির দর কমেছে, এবং ২৫টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বছরের প্রথম দিনেই সূচকের এমন ধারাবাহিকতা এবং সক্রিয় লেনদেন বাজারে পুঁজি ফেরার ইঙ্গিত। সরকারি স্থিতিশীলতা, চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসার প্রত্যাশা ও প্রণোদনামূলক নীতিমালার কারণে বাজার এখন ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে।
তাদের মতে, ব্যাংক সুদের হার কিছুটা স্থির, ডলার বাজারে চাপ কিছুটা প্রশমিত এবং বিনিয়োগকারীদের মনোবল কিছুটা ফিরে আসছে। এই মুহূর্তে বাজারের প্রতি আস্থার বহিঃপ্রকাশ হলে সামনের দিনগুলোতে বাজার আরও স্থিতিশীল ও গতিশীল হতে পারে।


