নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বন্ডবাজারকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে সরাসরি উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মান অনুসারে বন্ড ইস্যুর খরচ হ্রাস করা না গেলে এ খাত বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে না।
সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে গঠিত ‘বন্ড মার্কেট ডেভেলপমেন্ট’ বিষয়ক যৌথ কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই গভর্নরের এই বক্তব্য আসে। কমিটি তাদের প্রতিবেদনে বন্ডবাজারের বিকাশে বাধাগুলো চিহ্নিত করে এবং এর সমাধানে একাধিক কার্যকর সুপারিশ উপস্থাপন করে।
বর্তমানে বন্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে নানা ধাপে অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহিত হন। উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, ইস্যু ম্যানেজাররা মোট তহবিলের ০.৫০ শতাংশ ফি গ্রহণ করে থাকেন—যা বড় আকারের বন্ডে তুলনামূলকভাবে কম হলেও সামগ্রিকভাবে এটি ব্যয়সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়ায়। একইসাথে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) আবেদন ফি হিসেবে ১০ হাজার টাকা এবং বন্ডের আকার অনুযায়ী ০.১০ শতাংশ সম্মতি ফি দিতে হয়। এর বাইরে ট্রাস্টি আবেদন ফি, রেজিস্ট্রেশন ফি এবং বার্ষিক ফি বাবদও উল্লেখযোগ্য খরচ যুক্ত হয়। যৌথ কমিটি এসব খরচ কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পাওয়া এবং সঞ্চয়পত্রে উচ্চ সুদের হার বন্ডবাজারের বিকাশে বড় অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে। এ বিষয়ে গভর্নর ড. মনসুর আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, এসব প্রতিবন্ধকতা কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
যৌথ কমিটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব হলো বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানের ঋণ-ইক্যুইটি অনুপাত ৬০ শতাংশের বেশি, তাদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য শেয়ারবাজারকে কাজে লাগানোর সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো যেন সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের বেশি মেয়াদের ঋণ না দেয়।
ড. আহসান এইচ মনসুর এসব সুপারিশকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, “বন্ড ইস্যুর খরচ ও সময় কমাতে বিএসইসি-কে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।” সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি শক্তিশালী বন্ডবাজার তৈরি হলে তা শুধু দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের নির্ভরযোগ্য উৎসই হবে না, বরং ব্যাংক ঋণের ওপর চাপও হ্রাস করবে। এতে সামগ্রিকভাবে দেশের আর্থিক খাত আরও সুসংহত হবে।
বিএসইসি প্রতিনিধিরা মনে করছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ এবং যৌথ কমিটির প্রস্তাবিত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে দেশের পুঁজিবাজার নতুন গতি পাবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


