বন্ধ কারখানা, অদায়ী ঋণ: নিলামে যাচ্ছে নিউ লাইন ক্লোথিংয়ের সম্পদ

সময়: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৫ ১২:৩৮:২৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বন্ধ হয়ে যাওয়া পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নিউ লাইন ক্লোথিং লিমিটেডের সম্পত্তি নিলামে তুলছে সাউথইস্ট ব্যাংক। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এ প্রতিষ্ঠানটির কাছে ৪২৪.১২ কোটি টাকার পাওনা আদায় করতে ব্যাংকটি সম্প্রতি এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৮ আগস্ট পর্যন্ত নিউ লাইন ক্লোথিংয়ের কাছে সাউথইস্ট ব্যাংকের পাওনা দাঁড়িয়েছে ৪২৪ কোটি ১২ লাখ টাকা। এ অর্থ আদায়ে গাজীপুরের ১১২ শতাংশ জমি ও একটি সাততলা ফ্যাক্টরি ভবন নিলামে তোলা হচ্ছে। আগ্রহী দরদাতাদের আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

মূলধন সংকটে বন্ধ কারখানা
নিউ লাইন ক্লোথিংয়ের একজন প্রাক্তন কর্মকর্তা জানান, কোম্পানিটি দীর্ঘদিন ধরে মূলধন সংকটে ভুগছিল। ঋণ পরিশোধে অক্ষম হয়ে কারখানাটি বছরের পর বছর বন্ধ রয়েছে।

২০১৭ সাল থেকে সাউথইস্ট ব্যাংকের সঙ্গে কোম্পানির ব্যাংকিং সম্পর্ক শুরু হয়। তারা স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নিয়েছিল। ২০১৯ সালে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে ৩০ কোটি টাকা সংগ্রহ করলেও আর্থিক সংকট কাটাতে ব্যর্থ হয়। ওই অর্থের একটি অংশ ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ ও নতুন মেশিন কেনার জন্য ব্যবহারের কথা ছিল। তালিকাভুক্তির সময় তাদের ঋণের পরিমাণ ছিল ১২৩ কোটি টাকা।

আর্থিক প্রতিবেদন ও ডিভিডেন্ড স্থবির
তালিকাভুক্তির পর থেকেই কোম্পানির আর্থিক অবস্থার অবনতি শুরু হয়। ২০২২ সালের মার্চের পর থেকে তারা আর কোনো আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। ২০২০-২১ অর্থবছরের পর থেকে কোনো ডিভিডেন্ডও ঘোষণা করেনি। ওই অর্থবছরের ১২ কোটি ৭৯ লাখ টাকার মুনাফার বিপরীতে সর্বশেষ ১২.২৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়া হয়েছিল।

বিএসইসি ও ডিএসইর নজরদারি
চলতি বছরের এপ্রিলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর একটি পরিদর্শক দল নিউ লাইন ক্লোথিংয়ের কার্যালয় ও কারখানা বন্ধ অবস্থায় দেখতে পায়। ডিএসই কর্মকর্তারা জানান, বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল যে কোম্পানিটি বাজারকে অবহিত না করেই কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে।

টানা তিন বছর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) না করায় এবং আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় কোম্পানিটিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে আনা হয়েছে।

শেয়ার দর ও বাজার মূলধন ধস
কোম্পানির শেয়ার দরও পতনের চিত্র ফুটিয়ে তুলছে। ২০২৪ সালের আগস্টে যেখানে শেয়ারপ্রতি মূল্য ছিল ৪৫ টাকা ৪০ পয়সা, তা বর্তমানে ৬ টাকার নিচে নেমে এসেছে। বাজার মূলধনও সংকুচিত হয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকায়, যেখানে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৭৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

এছাড়া, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডিং কাঠামোর তথ্য হালনাগাদ করেনি। সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, স্পন্সর ও পরিচালকদের কাছে ছিল ৩০.৬১ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৮.৩৩ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৫১.০৬ শতাংশ শেয়ার। হালনাগাদ তথ্যের অভাব বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।

 

Share
নিউজটি ২০৯ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged