বরখাস্ত পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তাকে পুনর্বহালের আদেশ হাইকোর্টের

সময়: সোমবার, জুলাই ১৫, ২০২৪ ১১:২৮:০২ পূর্বাহ্ণ

বিশেষ প্রতিবেদক: লাগাতার বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত চতুর্থ প্রজন্মের বীমা কোম্পানি সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কর্মীরা। টানা চতুর্থ দিনের মতো গতকাল রোববার কয়েক দফা দাবিতে কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি পালন করে প্রতিষ্ঠানটির মাঠ পর্যায়সহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

বরখাস্তকৃত শীর্ষ পাঁচ কর্মকর্তার চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধসহ কয়েক দফা দাবিতে গত মঙ্গলবার থেকে প্রতিষ্ঠানটির অন্তত তিন শতাধিক কর্মী এই বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে কোম্পানিটির স্বাভাবিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কর্মীরা।

বিভিন্ন দাবিতে কোম্পানিটিতে আইডিআরএ নিযুক্ত প্রশাসক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) এস এম ফেরদৌসের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন আন্দোলনরতরা। স্মারকলিপিতে তারা বলেন, সোনালী লাইফের সকল এফএ, ইউএম ও বিএমদের বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে।; নিরপেক্ষ অডিট কোম্পানি দিয়ে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ অডিট সম্পন্ন করে রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে; স্যালারি পলিসি কার্যকর করার ক্ষেত্রে অন্যান্য জীবন বীমা কোম্পানির প্রচলিত সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় রেখে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নিয়ম যথাযথ প্রতি পালন সাপেক্ষে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে; এজেন্টদের অ্যালাউন্স ও বোনাস দ্রুত দেয়ার পদক্ষেপ নিতে হবে, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহিল কাফী, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফা, সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মো. আজিম এবং সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মঞ্জুর মোর্শেদকে দ্রুত পদে বহাল করতে হবে, প্রধান কার্যালয়ের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে অস্ত্রধারী আনসার সদস্যদের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে এবং আইডিআরএর’র প্রশাসক নিয়োগপত্রের ৯৫(৯) ধারার বাইরে স্বেচ্ছাচারী কোনো পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা যাবে না।

ইচ্ছামত নিয়োগ ও বরখাস্ত বন্ধ করতে হবে। এর আগে গত সপ্তাহে কোম্পানির শীর্ষ পাঁচ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেন প্রশাসক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) এস এম ফেরদৌস। তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, শৃঙ্খলা ভঙ্গ, সনদ জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়। এরপর মঙ্গলবার দাবি-দাওয়া আদায়ে জমায়েত হন সোনালী লাইফের কর্মকর্তারা।

তবে গতকাল রোববার বরখাস্তকৃত ওই শীর্ষ পাঁচ কর্মকর্তাকে সোনালী লাইফে পুনর্বহালের আদেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ।
একইসঙ্গে তাদেরকে বরখাস্ত করে দেয়া আদেশ কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, কর্তৃপক্ষের পরিচালক( আইন) ও সোনালী লাইফে নিযুক্ত প্রশাসককে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।

বিক্ষোভ ও কর্ম বিরতিতে অংশ নিয়ে সোনালী লাইফের এসিসট্যান্ট ম্যানেজিং ডাইরেক্টর (এএমডি) সাহেল রহমান বলেন, সোনালী লাইফের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত গ্রাহকের কোন অভিযোগ নেই। সঠিক সময়ে গ্রাহকের দাবি পরিশোধ করা হয়েছে। অথচ গ্রাহক স্বার্থ ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে সোনালী লাইফে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে আইডিআরএ।

তিনি আরও বলেন, সোনালী লাইফকে ধংস করার জন্য কর্মীদের বেতন-ভাতা বন্ধ করা হয়েছে, সেলস পলিসি বন্ধ করা হয়েছে। প্রশাসকের অদক্ষতার কারণে সোনালী লাইফের ব্যবসা অর্ধেকে নেমে এসেছে। তিনি আইডিআরএ’র আইনের বাইরে গিয়ে আমাদেরকে ছাঁটাই করছেন।

আরও বক্তব্য দেন কোম্পানির এসিসট্যান্ট ম্যানেজিং ডাইরেক্টর (এএমডি) আরেফিন বাদল রনি। তিনি বলেন, ভিত্তিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে। সেলস পলিসি ও বেতন-ভাতাও বন্ধ করা হয়েছে অবৈধভাবে।

 

Share
নিউজটি ৩১৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged