অতীত আলাপ টেনে জ্বালা বাড়িয়ে লাভ নেই

বর্তমানের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলাই বড় কাজ

সময়: মঙ্গলবার, আগস্ট ১৩, ২০২৪ ১:১৮:৩২ অপরাহ্ণ

২০০৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে ২৪টি বড় ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে প্রায় ৯২ হাজার ২৬১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্ট্রাল ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি)। এছাড়া আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের ১২ শতাংশ বা জিডিপির দুই শতাংশের সমান।

অর্থখেকো মানুষগুলো দেশের এতোবড় ক্ষতি করে গেছে শুধুমাত্র সাবেক সরকারের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও নেতা-নেত্রীদের জন্য। কিন্তু এখন সেই অতীত আলাপ টেনে জ্বালা বাড়িয়ে লাভ নেই। কিভাবে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যত বাংলাদেশ গড়া যায় সেজন্য বর্তমানের যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে সেগুলো মোকাবেলা করতে হবে।

এ মুহূর্ত্বে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা সমুন্নত রেখে সময়মতো তথ্যের সততা ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাংক খাতের স্বচ্ছতা আনতে একটি সুনির্দিষ্ট, সময় উপযোগী, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বাধীন ব্যাংকিং কমিশন গঠন করা হলে কঠিন কাজগুলো সহজ হবে। তবে স্বার্থান্বেষী মহল এতে বাধা তৈরি করতে পারে তাই এই সংস্কার রাজনৈতিকভাবে হওয়ার পক্ষে কথা বলে সিপিডি।

সিপিডি বলেছে যে ধসের দ্বারপ্রান্তে থাকা ব্যাংকগুলোকে বন্ধ করে দিতে হবে। সেটা কতটুকু যৌক্তিক হবে সে বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করতে হবে। হুট-হাট সিদ্ধান্ত পরে আফসোস নিয়ে ঘরে ঢুকবে।

এই দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করার পর অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত দুর্নীতি ও পুঁজি পাচারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান। পুঁজি পাচারের মূল রয়ে গেছে দুর্নীতি ও খেলাপি ঋণের লাগামহীন বিস্তারের মধ্যে। ঔপনিবেশিক আমলের পুঁজি পাচারকারীদের মতো বাংলাদেশের এই পুঁজি-লুটেরা ও পুঁজি পাচারকারীরা জাতির ‘এক নম্বর দুশমন’। ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে, ১৭৫৭ সালে পলাশী যুদ্ধে পরাজয়ের পূর্বে তদানীন্তন বাংলা ছিল সারা ভারতবর্ষে সবচেয়ে সমৃদ্ধ কৃষি অর্থনীতি এবং কুটির শিল্পজাত পণ্য রপ্তানির বিশ্বখ্যাত অঞ্চল।

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বেধড়ক পুঁজি লুণ্ঠন, পুঁজি পাচার এবং ঔপনিবেশিক লুটেরা শাসন-শোষণের শিকার হয়ে পরবর্তী ১০০ বছরে ঐ সমৃদ্ধ অর্থনীতি অবিশ্বাস্য বরবাদির অসহায় শিকারে পরিণত হয়েছিল। যা কিছুদিনও আগে চলমান ছিল।

কিন্তু ট্রেনের লাইন পরিবর্তন হওয়ায় গোটা বাংলাদেশ এখন এক জোট হয়ে মাঠে নামতে প্রস্তুত। রেমিট্যান্স যোদ্ধারা বাংলাদেশকে ইউরোপ করতে বদ্ধ পরিকর। তাই বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের হৃদয়ে জাপানি মনোভাব গড়ে উঠুক সেই প্রত্যাশা করি।

Share
নিউজটি ৩৪৮ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged