দেশের শেয়ারবাজার এক প্রকার পঙ্গু অবস্থায় পড়ে রয়েছে। নেই নতুন বিনিয়োগ। যেসব বড় প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি বিনিয়োগকারী রয়েছেন তারা আতঙ্কে সাইডলাইনে বসে রয়েছেন। কারণ নতুন বিনিয়োগ করলে শেয়ার দরে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। কিন্তু যখনই শেয়ার দর বৃদ্ধি পায় তখনই বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) লাগাম টেনে ধরতে তদন্ত ও জরিমানা করে আশঙ্কা ছড়িয়ে দেয়। যে কারণে বর্তমান বিএসইসির নিয়ন্ত্রণে বিনিয়োগ নিরাপদ নয়; তাই হাত গুটিয়ে বসে রয়েছেন অনেকে।
তবে দিনশেষে বিএসইসি চেয়ারম্যানকে দায়ী করছেন প্রায় সবাই। কিন্তু আসলেই কি বিএসইসি চেয়ারম্যান দায়ী। তার ব্যাকগ্রাউন্ড বলে তিনি ব্যক্তি হিসেবে খুবই স্বচ্ছল। তিনি আসলে কারো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। এখন এজেন্ডা বাস্তবায়ন যেখানে মূখ্য সেখানে বিএসইসির চেয়ারম্যান কে হলো আর কে গেলো সেটা বিষয় না।
বিএসইসি চেয়ারম্যান কি এককভাবে কোন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন? বেক্সিমকো শেয়ার কারসাজির জন্য ৪২৮ কোটি টাকার জরিমানা তার একার পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়। যেসকল কোম্পানি ডিভিডেন্ড ঘোষণার পরও ডিভিডেন্ড দেয়নি তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। বিএসইসির শুভেচ্ছদূত হিসেবে ক্রিকেটার সাকিবের নাম প্রত্যাহার করা, ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা, বিভিন্ন অনিয়ম খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা ইত্যাদি সিদ্ধান্তগুলো নিশ্চিতভাবে বলা যায় তিনি এককভাবে নেননি। সরকারি ওপর মহলের নির্দেশেই তিনি সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছেন। সরকারের সম্পূর্ণ সাপোর্ট রয়েছে চেয়ারম্যানের ওপর।
খন্দকার রাশেদ মাকসুদকে বিশেষ এসাইনমেন্ট দিয়েই বিএসইসিকে পাঠানো হয়েছে। আর এই মাস্টারমাইন্ডের পেছনে যিনি রয়েছেন তিনি পুঁজিবাজারের মাস্টারপিস এটা নিশ্চিত। সামনে আরও চমক অপেক্ষা করছে। গত ১৫ বছরে যারা চিহ্নিত অপরাধী ছিলেন তাদের একেবারে নির্মূল করে ছাড়বেন।
বাজারের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এই কমিশন বদ্ধ পরিকর। হাউজের ট্রেডার এবং কর্মকর্তা যারা আছেন তাদের আন্দোলন থেকে দূরে থাকা উত্তম। কারণ তাদের চাকরি আন্দোলনের অনুমতি দেয় না। তাদের অথরাইজেশন বাতিল করে ব্ল্যাক লিষ্ট করে দিলে জীবনে আর স্টক মার্কেটে চাকরি করার সুযোগ পাবেন না। অন্যদিকে শীবলি-হিরু সমর্থিত সাংবাদিকরা যেভাবে বর্তমান চেয়ারম্যানের পেছনে লেগেছেন তাতে তার কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে রাখতে চাইছে না। কারণ তিনি না থাকলে রাঘব-বোয়ালরা বেঁচে যাবেন। কিন্তু দিনশেষে এটাই সত্য তিনি থাকবেন নইলে অন্য কেউ আসবেন; সরকারি এজেন্ডা ঠিকই বাস্তবায়ন হবে।


