নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স পিএলসি ক্যাশ ডিভিডেন্ড না দিয়ে এবার বোনাস শেয়ার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছিল, কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার কারণে এখন তার পরিবর্তে ১০ শতাংশ বোনাস ডিভিডেন্ড দেবে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপের মূল কারণ প্রতিষ্ঠানটির দুর্বল আর্থিক পারফরম্যান্স। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি–জুন) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৫ পয়সায়, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬০ পয়সা। এছাড়া ৩০ জুন ২০২৫ শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৮ টাকা ৪০ পয়সায়।
এর আগে, ২০২৪ অর্থবছরে ন্যাশনাল হাউজিংয়ের ইপিএস ছিল মাত্র ৩ পয়সা, যেখানে তার আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৩ পয়সা। ওই বছরের শেষে এনএভিপিএস দাঁড়ায় ১৭ টাকা ৯৫ পয়সায়। তুলনায়, ২০২৩ অর্থবছরে ইপিএস ছিল ১ টাকা ৩ পয়সা, তবুও প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল। তার আগের বছর ২০২২ সালে ইপিএস ছিল ২ টাকা ২৫ পয়সা।
ডিএসই জানিয়েছে, প্রথমে ন্যাশনাল হাউজিং ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করলেও বাংলাদেশ ব্যাংক মূলধন শক্তিশালী করা এবং ব্যবসায় পুনর্বিনিয়োগের স্বার্থে সেই সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেয়নি। বরং তারা বোনাস ডিভিডেন্ড প্রদানের নির্দেশনা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাশনাল হাউজিংয়ের পরিচালনা পর্ষদ নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল হাউজিং ২০০৯ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১১৭ কোটি ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা। বিপরীতে রিজার্ভে রয়েছে ১০৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।
কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ১১ কোটি ৭০ লাখ ৩১ হাজার ২০০টি। এর মধ্যে—
✔ উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৫০.৫৭% শেয়ার
✔ সরকারের কাছে রয়েছে ৯.৩৪%
✔ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ১১.২৮%
✔ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ২৮.৮১% শেয়ার


