বাজারে আস্থার সংকট, বিদেশিদের টানা বিনিয়োগ প্রত্যাহার

সময়: বুধবার, এপ্রিল ৮, ২০২৬ ৭:১২:৫৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নানা সীমাবদ্ধতার প্রভাবে গত মার্চ মাসে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগ তুলে নিয়েছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। এ সময় অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ব্র্যাক ব্যাংক ও গ্রামীণফোনের মতো শক্তিশালী মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির চাপ দেখা গেছে, যা বাজারের স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, মার্চ মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭২ কোটি টাকা, যা আগের মাস ফেব্রুয়ারির তুলনায় ৫৯ শতাংশ কম। এর মধ্যে বিক্রির পরিমাণ ছিল ২১৫ কোটি টাকা, বিপরীতে ক্রয় ছিল মাত্র ৫০ কোটি টাকা। ফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদেশি নগদ অর্থ বাজার থেকে বেরিয়ে গেছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে, যেখানে বিদেশিরা প্রায় ৭৬ কোটি টাকার শেয়ার ছাড়েন। এর ফলে কোম্পানিটিতে তাদের শেয়ারধারণ ৩০ দশমিক ২৬ শতাংশ থেকে কমে ২৭ দশমিক ৬২ শতাংশে নেমে এসেছে। এর পরেই রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, যেখানে ৩৪ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস থেকে ৩২ কোটি এবং গ্রামীণফোন থেকে ২৯ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি হয়েছে।

অন্যান্য বড় কোম্পানির মধ্যে রেনাটা লিমিটেড থেকে ১১ দশমিক ৫০ কোটি, সিটি ব্যাংক থেকে ১০ কোটি এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ থেকে ৪ দশমিক ৬০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। পাশাপাশি বিএসআরএম, লাফার্জহোলসিম, মারিকো এবং আইডিএলসি ফিন্যান্সের মতো কোম্পানিগুলো থেকেও তারা বিনিয়োগ কমিয়েছেন। অন্যদিকে ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স ও রিং শাইন টেক্সটাইলের মতো কিছু ছোট কোম্পানিতে সীমিত পরিসরে বিনিয়োগ বেড়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেল ও ডলারের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে দেশের অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানি খাতের ঝুঁকি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে তুলছে। এছাড়া সুশাসনের ঘাটতি এবং নিম্নমানের বা ‘জাঙ্ক’ শেয়ারের আধিক্যও বিদেশিদের আস্থায় প্রভাব ফেলছে।

অর্থবছরের শেষ প্রান্তে এসে এই বিনিয়োগ প্রত্যাহার বাজারের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। তবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, পুঁজিবাজারে অনিয়ম ও কারসাজি নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম জোরদার এবং ডিজিটাল সংস্কারের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাজারকে আরও স্বচ্ছ ও আকর্ষণীয় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

Share
নিউজটি ৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged