নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারে চলমান দরপতনের ধারা থামার কোনো লক্ষণ নেই। ক্রমাগত সূচকপতনের সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতায় লেনদেনও নেমে এসেছে প্রায় তলানিতে। রোববার (১০ নভেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সাড়ে চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন রেকর্ড হয়েছে। একই সঙ্গে সূচকও প্রায় চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অস্থির ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণেই বাজারে এমন সংকট দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে বরং বিশেষ কিছু গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতেই নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন আচরণ। তাই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত বাজার স্থিতিশীল করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে পুনর্গঠন এবং দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা।
এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৯.১৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৪,৮৬০.৭৫ পয়েন্টে, যা গত প্রায় সাড়ে চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে গত ২ জুলাই সূচক ছিল ৪,৮৬৫.৩৩ পয়েন্ট। অন্যদিকে ডিএসইএস সূচক ১১.৮৯ পয়েন্ট কমে ১,১০.৭০ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১৮.৪৯ পয়েন্ট কমে ১,৯১০.৩০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
দিনশেষে ডিএসইতে মোট ৩৮৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ৭০টির দর বেড়েছে, ২৭৫টির দর কমেছে এবং ৪১টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
লেনদেনের দিক থেকে বাজারে বড় ধস দেখা গেছে। এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে মাত্র ৩৫৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকার, যা গত ২৪ জুনের পর সর্বনিম্ন। ওইদিন লেনদেন হয়েছিল ৩৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকার। গতকাল (শনিবার) লেনদেন হয়েছিল ৪০২ কোটি ২০ লাখ টাকার, অর্থাৎ একদিনে লেনদেন কমেছে প্রায় ৪৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এদিন লেনদেন হয়েছে ১৪ কোটি ৫১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট, যা আগের দিনের ২২ কোটি ৯ লাখ টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
সিএসইতে ১৭৩টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়, এর মধ্যে ৩৭টির দর বেড়েছে, ১২৭টির দর কমেছে, এবং ৯টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৪০.১৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৩,৭৪৩.৩৭ পয়েন্টে। আগেরদিন এই সূচক ৮৬.০৬ পয়েন্ট কমেছিল।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাজারে স্বচ্ছতা, আস্থা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেয়া এখন সময়ের দাবি।


