নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ফার্মা ও রসায়ন খাতের কোম্পানি এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কোম্পানিটির শেয়ারদর বাড়ানোর লক্ষ্যে উচ্চমূল্যের ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) প্রকাশকে কেন্দ্র করে কারসাজির অভিযোগ উঠেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্লেসমেন্ট শেয়ারধারীরা লক-ইন সময়সীমা শেষ হওয়ার পর বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে এই ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছিল।
তবে বিষয়টি নজরে আসার পর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটি আইপিওর অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে ব্যর্থ হওয়ার পরও কোনো প্রকল্প মূল্যায়ন, সম্ভাব্যতা যাচাই, রাজউকের অনুমোদন বা পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর ৩২ তলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা সংক্রান্ত পিএসআই প্রকাশ করে।
বিএসইসি মনে করে, এ ধরনের ঘোষণার মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিতে ফেলে প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছিল। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোম্পানির উদ্যোক্তা, পরিচালক ও প্লেসমেন্ট শেয়ারহোল্ডারদের লক-ইন মেয়াদ তিন বছর পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে, যা ভবনটির নির্মাণ ও বাণিজ্যিক ব্যবহার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এই সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট কিছু গোষ্ঠী অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে, যা বাজারে আরও অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
এদিকে, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সামগ্রিক বাজারে নেতিবাচক প্রবণতা থাকলেও এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ারদর বিপরীতমুখী আচরণ করেছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৬৮ টাকা ২০ পয়সা, যা বিএসইসির পদক্ষেপের পর তিন কার্যদিবসে কমে ৫৭ টাকায় নেমে আসে। তবে পরবর্তীতে আবারও বেড়ে সোমবার (৬ এপ্রিল) লেনদেন শেষে ৮৬ টাকা ৬০ পয়সায় পৌঁছায়।
ডিএসইর তদন্তে দেখা যায়, গত বছরের ৩১ জুলাই শেয়ারটির দর ছিল ৪৪ টাকা ৪০ পয়সা, যা ১৭ আগস্টে বেড়ে ৫২ টাকা ২০ পয়সায় দাঁড়ায়। মাত্র ১০ কার্যদিবসে প্রায় ১৮ শতাংশ দর বৃদ্ধি পেলেও এর পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কোম্পানিটির পণ্যের বাজার উপস্থিতি সীমিত এবং কৃত্রিমভাবে মুনাফা প্রদর্শনের মাধ্যমে এটি টিকে থাকার চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ অর্থবছরের জন্য কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদান করেছে, যা প্রতি শেয়ারে ১ টাকা। একই সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দেখানো হয়েছে ২ টাকা ৯ পয়সা।


