বিশেষজ্ঞদের অভিমত

‘বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য বীমা’ নিশ্চিত করবে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা

সময়: সোমবার, আগস্ট ১২, ২০২৪ ৭:৪১:৪৩ অপরাহ্ণ

বিশেষ প্রতিবেদক: টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) অন্যতম অভিষ্ট ২০৩০ সালের মধ্যে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে এখনো স্বাস্থ্যসেবা পেতে একজন নাগরিককে ৬৯ থেকে ৭৪ ভাগ নিজের পকেট থেকে খরচ করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য বীমা চালুর পরামর্শ এসেছে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে। সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য বীমা, কমিউনিটি স্বাস্থ্য বীমা, সামাজিক স্বাস্থ্য বীমাসহ বীমা খাতের বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম রয়েছে। যা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা ।

তারা বলছেন, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন জাতীয় স্বাস্থ্য বীমার ব্যবস্থার করা। জাতীয় স্বাস্থ্য বীমায় সব নাগরিক বাধ্যতামূলকভাবে এ স্বাস্থ্য বীমার আওতাভুক্ত থাকবে, সরকার রাজস্ব খাত থেকে এ বীমা খরচ বহন করবে, সরকারি সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ সেবা চালু করা যেতে পারে।

বাংলাদেশের বেশকিছু প্রতিষ্ঠান সামাজিক স্বাস্থ্য বীমা বা গ্রুপ স্বাস্থ্য বীমা চালু করেছে কিন্তু এর ব্যবহার এখনো অপর্যাপ্ত এবং সব ধরনের চিকিৎসা সেবা দেয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধতা লক্ষ্য করা যায়। এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য বীমা ব্যবস্থা চালুর পক্ষে মত দিয়ে বেসরকারি চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জিয়াউল হক বলেন, কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন থেকে স্বাস্থ্য বীমার চাঁদা কেটে রাখে এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করে থাকে। যদিও বাংলাদেশের বেশকিছু প্রতিষ্ঠান এ স্বাস্থ্য বীমা চালু করেছে কিন্তু এর ব্যবহার এখনো অপর্যাপ্ত এবং সব ধরনের চিকিৎসাসেবা দেয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধতা লক্ষ করা যায়। সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য বীমার ব্যবস্থা করে এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

নিটল ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান একেএম মনিরুল হক বলেন, আমাদের দেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ আকস্মিক অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে উদ্ভুত চিকিৎসা খরচ মেটাতে হিমশিম খায়। স্বাস্থ্য বীমা এক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা পালন করে। আমাদের দেশে বর্তমানে প্রচলিত স্বাস্থ্য বীমা যেমন, গ্রুপ বীমা, হসপিটাল কভারেজ বীমা, মেডিক্লেইম, পার্সোনাল এক্সিডেন্ট পলিসি ইত্যাদি রয়েছে। তথাপি বিপুলসংখ্যক জনগণের আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে সরকারিভাবে যদি সার্বজনীন স্বাস্থ্য বীমা কিছুটা ভর্তুকি দিয়ে প্রচলন করে, তবে বিরাট সংখ্যক নাগরিক এর সুফল পাবে। যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিশ্চিত করবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সবার জন্য স্বাস্থ্য বীমা বাধ্যতামূলক করার যে দাবি উঠেছে তা খুবই যুক্তিযুক্ত। বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে যার ফলে স্বাস্থ্য বীমাকে বাধ্যতামূলক করার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। দেশের জনগণের সুস্থ স্বাভাবিক জীবন এবং স্বাস্থ্য খাতের টেকসই উন্নয়নে সবার জন্য স্বাস্থ্য বীমা বাধ্যতামূলক করার এখনই উপযুক্ত সময়। যদিও বাংলাদেশে স্বাস্থ্যবীমার যেমন সম্ভাবনা রয়েছে তেমনি এটি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জও রয়েছে।

এস এম জিয়াউল হক মনে করেন, স্বাস্থ্য খাতে শূন্য পদ পূরণ করা, প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলোর একটি পূর্ণ প্যাকেজ (ইএসপি) প্রণয়ন ও শহুরে এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার ব্যবস্থা করলে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যবীমা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জগুলো তরান্বিত হবে। যাতে করে স্বাস্থ্য খাতে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা (ইউএইচসি) অর্জনের পথে দ্রুত এগিয়ে যেতে পারবে। পরিষেবা সম্প্রসারণ, সম্পদ বৃদ্ধি ও কার্যকারিতা বাড়ানোর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহ ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যবীমা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও জনগণকে আগ্রহী করতে পারবে বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

তথ্যসূত্র বলছে, প্রতিবেশী দেশ ভারত সরকার ২০১৮ সালে ১০ কোটি পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যবীমা চালু করেছে। যার আওতায় জটিল রোগের জন্য ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা সহায়তা পাচ্ছে। এই অর্থের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার ৬০ শতাংশ এবং রাজ্য সরকার ৪০ শতাংশ খরচ বহন করছে।

Share
নিউজটি ২৫৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged