শীবলী রুবায়েত-উল-ইসলামের বামে নাজমুছ সালেহীন

বিআইসিএমে অবৈধ নিয়োগ: দুর্নীতির অভিযোগ

সময়: বুধবার, জানুয়ারি ১৫, ২০২৫ ৫:২৯:৫১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেটের কর্মকর্তা নিয়োগে হয়েছে অনিয়ম। অবৈধ নিয়োগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা দুর্নীতির অভিযোগ। তাই গেল কমিশনের আমলে নিয়োগ পাওয়া এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

শিবলী রুবায়েত-উল-ইসলামের বামে নাজমুছ সালেহীন
শিবলী রুবায়েত-উল-ইসলামের বামে নাজমুছ সালেহীন

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতল-উল-ইসলামের নিয়োগকৃত নাজমুছ সালেহীন। তার নিয়োগে রয়েছে নানা অনিয়ম। ভঙ্গ হয়েছে আইন।
বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট প্রবিধানমালা-২০১১ অনুসারে, পরিচালক প্রশাসন ও অর্থ পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে, “ফিন্যান্স, হিসাব বিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা বা ব্যবসা প্রশাসন এ স্নাতোকোত্তর ডিগ্রী/সিএ/সিএমএ/ প্রশাসন ও আর্থিক বিষয়ে অন্যূন ২০ বৎসরের পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকতে হবে বলে উল্লেখ রয়েছে।

কিন্তু নিয়োগের ক্ষেত্রে তার প্রশাসন ও আর্থিক বিষয়ে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা ছিল না। এতে নিয়ম বর্হিভূতভাবে তিনি নিয়োগ পান।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর বিভিন্ন ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা চালু করেন। সরকারী চাকুরীতে প্রতি তিন বৎসর চাকুরী করে এক মাসের মূল বেতনের সমান বিনোদন ভাতা ও ১৫ দিনের ছুটি প্রাপ্য হলেও নাজমুছ সালেহীন যাকে পছন্দ হয় তাকে ছুটি দেন, যাকে পছন্দ হয় না তাকে ছুটি দেন না।
বর্তমান বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদকেও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন জন সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রতকর অবস্থায় ফেলেছেন। সম্প্রতি অন্যায়ভাবে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে দুইজন একজন ইঞ্জিনিয়ার ও একজন অফিস সহায়ককে বরখাস্ত করা হয়। ইঞ্জিনিয়ার সরকারের উচ্চপর্যায়ের কাছে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে পুনরায় চাকরিতে বহাল হয়েছেন। অফিস সহায়ক আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করেছেন।
শিবলীর যাবতীয় অনৈতিক ও অপকর্মের বড় সহযোগী হচ্ছে এই নাজমুহ সালেহীন। প্রতিটি অন্যায় কাজে আর্থিক লেনদেনে তিনি সহযোগিতা করে শিবলীর প্রিয়ভাজন হয়ে তার বিশ্বস্ত ক্যাশিয়ারে পরিণত হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাজমুছ সালেহীন বর্তমানে পরিচালক প্রশাসন ও অর্থ। পরিচালক স্টাডিজ ও রিসার্চ পদের যোগ্যতা না থাকলেও তিনি অন্যায়ভাবে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক স্টাডিজ ও রিসার্চ হিসেবে এবং ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রেসিডেন্ট পালন করছেন। অর্থাৎ তিনি তিনটি দায়িত্ব একসাথে পালন করছেন। সরকারি নিয়ম অনুসারে একজন ব্যক্তি একাধিক পদে ভারগ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না।
অথচ পরিচালক স্টাডিজ ও রিচার্স হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রতিষ্ঠানে যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষক থাকার পরেও তিনি কাউকে সুযোগ দিচ্ছেন না।
জানা যায়, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট কর্তৃক পরিচালিত মাস্টার্স অব অ্যাপ্লাইড ফাইন্যান্স এন্ড ক্যাপিটাল মার্কেট কোর্সটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২টি শর্তের অধীনে পরিচালিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরও একজন পরিচালক স্টাডিজ থাকার শর্ত রয়েছে।
নাজমুহ সালেহীন শর্তগুলোর বেশীরভাগ মেনে চলছেন না। নিজের ইচ্ছেমত প্রোগ্রামটি পরিচালনা করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক চলতি দায়িত্ব নামে কোন পদ না থাকলেও তিনি তা দিয়েছেন। সরকারি চাকুরীতে জেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার নিয়ম না থাকলেও তিনি দিয়েছেন।

নিয়মানুসারে, তিনি একটি গাড়ী পান। কিন্তু তিনি তিনটি গাড়ী ব্যবহার করছেন। তাছাড়া তার ফ্লাটের জন্য টাইলসসহ যাবতীয় ফিটিংস বিআইসিএম এর গাড়ীতে পরিবহন করেন। বাচ্চার স্কুল, কাঁচাবাজার ইত্যাদি ব্যক্তিগত কাজ করান।
দুর্নীতি ও লুটপাটের আখড়ায় পরিণত হয়েছিল শেয়ারবাজারের প্রশিক্ষণ সংস্থা বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট (বিআইসিএম)। জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ, প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত শিক্ষক বাদ দিয়ে নিজের লোককে ভাড়া করে ক্লাস নেওয়া, নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কেনাকাটা এবং অন্যান্য ব্যয়ে ভাগবাঁটোয়ারা করে লুটপাট হয়েছে। এর সুবিধাভোগী বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দীন আহমেদ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও শেয়ারবাজার বিভাগের সাবেক প্রধান ড. নাহিদ হোসেন, বিআইসিএমের সাবেক নির্বাহী প্রেসিডেন্ট ড. মুহাম্মদ তারেক ও সাবেক নির্বাহী প্রেসিডেন্ট ড. মাহমুদা আক্তার। এছাড়াও এই প্রকল্পের মাধ্যমে সুবিধা দিয়ে এখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন শিবলী রুবাইয়াত।
এছাড়াও বেপরোয়া দুর্নীতি করেছেন সাবেক নির্বাহী প্রেসিডেন্ট ড. মাহমূদা আক্তার। প্রশাসনিক কাজে অদক্ষ হলেও শিবলী রুবাইয়াতের ঘনিষ্ঠতায় তিনি নিয়োগ পান। শুরুতেই নিয়মনীতি উপেক্ষা করে তার অনুসারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুবর্ণ বড়ুয়াকে ৩ বছরের জন্য রিসার্চ কনসালট্যান্ট নিয়োগ দেন মাহমুদা আক্তার। এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন নেওয়া হয়নি। বাস্তবে ড. বড়ুয়া কোনো গবেষণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। কিন্তু বিআইসিএম থেকে সম্মানিসহ অন্যান্য ভাতা বাবদ প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেন।
এদিকে এসব অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মন্তব্য জানতে চাইলে নাজমুছ সালেহীন কিংবা মাহমুদা আক্তার কেউই রাজি হননি। বিএসইসিতে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখবে বলে জানান।

 

 

Share
নিউজটি ৫৭৬ বার পড়া হয়েছে ।