বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, প্রধান বিচারপতি থেকে শুরু রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিভাগের অযোগ্য লোকদের ছাঁটাই প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু এখনো দেশের গুরুত্বপূর্ সেক্টর শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থায় এখনো কোনো হস্তক্ষেপ হয়নি। তবে গেল সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের একটি দল বিএসইসির চেয়ারম্যানের পদত্যাগ চেয়ে কমিশন ভবনে গিয়েছিলেন। সামনে বিএসইসির অযোগ্য লোকদের পদত্যাগে বাধ্য করতে বিনিয়োগকারীরা আবারও যাবেন এমনটিই খবর এসেছে।
যদি বিনিয়োগকারীদের দাবির মুখে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) ঢালাও পরিবর্তন শুরু হয় তবে কে দায়িত্ব নেবেন এমন প্রশ্ন সংশ্লিষ্টদের। তবে যেহেতু অর্থমন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ রয়েছে তাই শেয়ারবাজারে আমূল পরিবর্তন আসাটাই স্বাভাবিক। এতোদিন যোগ্য লোকের অভাবে শেয়ারবাজার তার কাঙ্খিত জায়গায় পৌছাতে পারেনি।
যেখানে যোগ্য লোকের মূল্যায়ন হয় না, সেখানে কখনই সঠিক পরিস্থিতি বিরাজ করবে না। আমরা একটা দেশ স্বাধীন করেছি। জীবনের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে হলে শুধু রাজনীতি নয়, প্রতিটি ক্ষেত্রেই উন্নতি করা প্রয়োজন। বিশেষ করে দেশের পুঁজিবাজার যে অবস্থায় রয়েছে এটিকে অনেকটা পচনশীল দেহের সঙ্গে তুলনা করা যায়। এর থেকে পুঁজিবাজার মুক্ত করা প্রয়োজন।
তাই দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে কে বসবে সে উত্তর দেওয়া কঠিন। কারণ চাটুকারিতার রাজ্যে সবাই যার যার আখের গোছাবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সরকার প্রধান এই চাটুকারিতার সঙ্গ দিবেন না সেই প্রত্যাশা লাখো বিনিয়োগকারীদের। বিএসইসিতে অনেক ঢালাও পরিবর্তন আসবে সেটা সহজেই অনুমেয়। সাবেক সরকার সমর্থক কেউ থাকবে বলে মনে হয় না। তাই বিএসইসিতে ঢালাও পরিবর্তন যেন যুগপোযোগী হয় সেটাই চাচ্ছেন ভুক্তভোগিরা।
এতোদিন যারা কমিশনে দায়িত্ব নিয়েছেন তাদের বাজার সম্পর্কে কোন ধারণা ছিল না। যেখানে এক মহাসমুদ্রে পড়ে তারা হাঁসফাঁস করেছেন। আর লুটপাটের স্বর্গরাজ্য বানিয়েছেন। কিন্তু যারা বিএসইসিতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন, অভিজ্ঞ তারাই মূলত এই শেয়ারবাজারকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। কারণ শেয়ারবাজারের ভেতরগত খবরাখবর তারাই ভালো জানেন। এই বাজারে কে চাটুকার, কে উন্নয়নে কাজ করতে চায় তাদের সবাই চেনে। কিন্তু সুযোগের অভাবে, ওপরের মহলের ইশারায় কেউ কাজ করতে পারছেন না। তাই বিএসইসির আগামীর সাজানো যেন যুগপোযোগী হয় সেই প্রত্যাশা লাখো বিনিয়োগকারীর।


