বিএসইসির বরখাস্ত কর্মকর্তাদের পুনর্বহাল আবেদন বাতিল, শুনানি শুরু আজ থেকে

সময়: বুধবার, জুলাই ২৩, ২০২৫ ১১:১১:১৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বরখাস্ত হওয়া ২১ কর্মকর্তার পুনর্বহালের আবেদন বাতিল করে দিয়েছে কমিশন। বরং এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের শুনানি আজ বুধবার (২৩ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে। বরখাস্তকৃতরা হাইকোর্টের একটি রায় অনুসরণ করে কাজে ফিরে এলেও বিএসইসি তাদের পুনর্বহাল না করে আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।

গত ২৯ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখে বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পদত্যাগ দাবিতে কর্মীদের বিক্ষোভের সময় পরিষেবা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ২১ জন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে কমিশন।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, বরখাস্তকৃত কর্মকর্তাদের বেশিরভাগই ২০১৫ সালের একটি হাইকোর্টের রায়ের আলোকে ইতোমধ্যেই কর্মস্থলে ফিরেছেন এবং নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছেন। উক্ত রায়ে বলা হয়েছিল, “আইনে অন্যথা না থাকলে, কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান ৬০ দিনের বেশি সময় ধরে কোনো কর্মচারীকে বরখাস্ত রাখতে পারবে না এবং এরপর ওই কর্মচারী পূর্ণ বেতন ও সুযোগ-সুবিধার দাবিদার হবেন।”

এই রায় উল্লেখ করে প্রায় ১৮ জন কর্মকর্তা পূর্ণ বেতন ও পুনর্বহালের দাবিতে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছেন। তবে বিএসইসি কমিশনার মোহসিন চৌধুরী জানিয়েছেন, আইনি পরামর্শ অনুযায়ী আবেদনগুলো বাতিল করা হয়েছে। তার ভাষায়, “ওই হাইকোর্টের রায় বিএসইসির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আমরা লিখিতভাবে আবেদনকারীদের তা জানিয়ে দিয়েছি।”

তবে কমিশনের আইন বিভাগ এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত মত দেয়নি বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

বরখাস্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম পরিচালক আবু রায়হান মোহাম্মদ মুতাসিম বিল্লাহ ২ জুলাই অফিসে ফিরে আসেন। তার পরপরই কার্যনির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম, পরিচালক আবুল হাসান, ফখরুল ইসলাম মজুমদার, উপ-পরিচালক মোঃ নন্নু ভূঁইয়া ও সহকারী পরিচালক আমিনুল হক খানসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা অফিসে উপস্থিত হতে শুরু করেন।

তবে বিএসইসি তাদের কোনো দায়িত্ব দেয়নি বা আনুষ্ঠানিকভাবে অবস্থান ব্যাখ্যা করে কোনো প্রশাসনিক আদেশও জারি করেনি। বরখাস্ত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, আবেদনপত্রে আইনগত ব্যাখ্যার কথা বলা হলেও প্রত্যাখ্যান চিঠিতে নির্দিষ্ট কোনো আইন বা বিধির উল্লেখ করা হয়নি।

আইনি ও প্রশাসনিক সংকটে বিএসইসি
কমিশনের অভ্যন্তরীণ সূত্রমতে, ৬০ দিনের আইনি সময়সীমা অতিক্রম করার পরও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় বিএসইসি একটি জটিল পরিস্থিতিতে পড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি এখন আর শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ও প্রতিশোধের রূপ নিচ্ছে, যা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ এবং মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এছাড়া, সরকারের উপ-সচিব মনির হোসেন হাওলাদারকে প্রেষণে বিএসইসিতে প্রথমে যুগ্ম পরিচালক এবং পরে পরিচালক পদে পদোন্নতির ঘটনাও বিদ্যমান কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে।

বরখাস্তকৃতদের তালিকায় কারা রয়েছেন
বরখাস্তদের মধ্যে রয়েছেন কার্যনির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম, পরিচালক আবু রায়হান মোঃ মুতাসিম বিল্লাহ, আবুল হাসান, ফখরুল ইসলাম মজুমদার। অতিরিক্ত পরিচালক হিসেবে নজরুল ইসলাম ও মেরাজ-উস-সুন্নাহ এবং যুগ্ম পরিচালক পদে রাশেদুল ইসলাম রয়েছেন।

উপ-পরিচালক পর্যায়ে বরখাস্ত হয়েছেন বনি ইয়ামিন, আল ইসলাম, শহীদুল ইসলাম, তৌহিদুল ইসলাম, মোঃ নন্নু ভূঁইয়া। সহকারী পরিচালক হিসেবে রয়েছেন জনি হোসেন, রায়হান কবির, সাজ্জাদ হোসেন, আব্দুল বাতেন, আমিনুর রহমান খান, তারিকুল ইসলাম ও সমীর ঘোষ।

এছাড়া গ্রন্থাগারিক মোঃ সেলিম রেজা বাপ্পি এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আবু ইউসুফও বরখাস্তকৃতদের তালিকায় রয়েছেন।

এই ঘটনায় বিএসইসির সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—যার জবাব পেতে আগ্রহী বিনিয়োগকারী মহলসহ সংশ্লিষ্ট সবাই।

Share
নিউজটি ১৬০ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged