বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি তদন্ত শুরু করেছে দুদক

সময়: মঙ্গলবার, নভেম্বর ১১, ২০২৫ ১১:০৮:১১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দুদক ইতোমধ্যে বিএসইসির কাছে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, দুদকের পাঠানো চিঠির পর বিএসইসি কর্তৃপক্ষ তদন্ত সংশ্লিষ্ট যাবতীয় নথি ও দলিল দুদকে সরবরাহ করেছে।

দুদকের পাঠানো চিঠিতে অধ্যাপক খায়রুল হোসেনকে চেয়ারম্যান হিসেবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার নিয়োগের প্রক্রিয়া এবং বিএসইসি চেয়ারম্যান নিয়োগের নীতিমালা সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ে আইপিও অনুমোদন, শেয়ার অধিগ্রহণ ও হস্তান্তর, মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ, সেকেন্ডারি মার্কেটে অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি ও কারসাজি সংক্রান্ত যেকোনো তদন্ত প্রতিবেদন ও রেকর্ডের সত্যায়িত কপি দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া দায়িত্বকালীন সময়ে যেসব কোম্পানিকে আইপিও সুবিধা দেওয়া হয়েছে, তাদের তালিকা, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নাম, পদবি ও ঠিকানাসহ বিস্তারিত তথ্যও চেয়েছে দুদক।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, রেইস ম্যানেজমেন্ট পিএলসি ও এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি কর্তৃক মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট হোল্ডারদের অর্থ তছরুপের অভিযোগে কোনো তদন্ত হয়ে থাকলে তার প্রতিবেদন ও গৃহীত ব্যবস্থার কপিও জমা দিতে হবে।

তাছাড়া কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, অ্যাপোলো ইস্পাত, ও রিং শাইন টেক্সটাইল–এর আইপিও ও প্লেসমেন্ট সংক্রান্ত কেলেঙ্কারি নিয়ে তদন্ত হয়ে থাকলে তার পূর্ণাঙ্গ নথিও চেয়েছে দুদক।

একই সঙ্গে সালভো কেমিক্যাল, জেনেক্স ইফোসিস, ওরিয়ন ইনফিউশন, ইমাম বাটন ইন্ডাস্ট্রিজ, সি পার্ল বিচ রিসোর্টস, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, জুট স্পিনার্স, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ইন্ডাস্ট্রিজ এবং খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং–এর শেয়ারমূল্যের অস্বাভাবিক উত্থান-পতনের পেছনে কোনো কারসাজি বা অনিয়ম ছিল কি না—তা নিয়েও তথ্য চেয়েছে দুদক।

দুদক আরও নির্দেশ দিয়েছে, ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ সংক্রান্ত রেকর্ড, প্লেসমেন্ট শেয়ার ইস্যুর নীতিমালা এবং সুবিধাভোগীদের তালিকা-সহ সকল নথির সত্যায়িত কপি জমা দিতে। বিএসইসি সূত্র নিশ্চিত করেছে, কমিশন ইতোমধ্যে দুদকের চাহিদা অনুযায়ী সব প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের শেয়ারবাজার ধসের পর গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বিএসইসিকে নতুনভাবে গঠন করা হয়। এরপর ২০১১ সালের ১৫ মে অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেন বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রথমে তিনি ৩ বছরের জন্য নিয়োগ পান, পরে ৪ বছর ও সর্বশেষ আরও ২ বছরের জন্য মেয়াদ বাড়ানো হয়।

 

Share
নিউজটি ৭৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged