নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনার অবসান ঘটাতে প্রস্তাব করা হয়েছে একটি সার্চ কমিটি গঠনের। এটি সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ২০২৫-এর খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগ।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গত ১০ জুলাই জনমত গ্রহণের উদ্দেশ্যে খসড়াটি প্রকাশ করে। এতে ১৯৬৯ সালের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ এবং ১৯৯৩ সালের বিএসইসি আইন একত্র করে একটি আধুনিক এবং জবাবদিহিমূলক কাঠামো গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
নতুন আইনে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি সার্চ কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে, যা বিএসইসি’র চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার নিয়োগে প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করবে। কমিটির প্রধান থাকবেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি, যিনি প্রধান বিচারপতির মনোনয়নে দায়িত্ব পালন করবেন। অন্য সদস্যরা হলেন: কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান, এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিব, যিনি একইসাথে কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। কমিশনার নিয়োগে বিএসইসি’র বর্তমান চেয়ারম্যানও এই কমিটিতে থাকবেন।
প্রতিটি পদে দুজন করে প্রার্থী নির্বাচন করে সরকারকে সুপারিশ করবে সার্চ কমিটি।
সংস্কার টাস্কফোর্সের একজন সদস্য জানান, তারা একটি স্বাধীন তদারকি সংস্থার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন যাতে মন্ত্রণালয়ের অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ বন্ধ হয় এবং কমিশনের কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ হয়। কিন্তু খসড়ায় সেই সুপারিশ স্থান পায়নি।
এক ব্রোকারেজ ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, “গত এক দশকে রাজনৈতিক বিবেচনায় অযোগ্য ও অদক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগের ফলে শেয়ারবাজারে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। জিডিপিতে বাজারের অবদান উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।” তিনি আরও বলেন, যোগ্য ব্যক্তিদের সার্চ কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ দিলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরতে পারে।
খসড়া আইনে শেয়ার কারসাজিতে শাস্তির পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়েছে। এখন থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে, যেখানে পূর্বে এটি ছিল ৫ লাখ টাকা এবং ৫ বছর।
এছাড়াও, বাজার-সম্পর্কিত মামলাগুলো সরাসরি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দায়েরের সুযোগ রাখা হয়েছে, যা দীর্ঘসূত্রতা কমাতে সহায়ক হবে।
খসড়ায় বিনিয়োগকারীদের তহবিল সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা এবং দেউলিয়াত্ব রোধে ব্রোকারেজ ফার্মগুলোর উপর নজরদারি জোরদারের বিধান রাখা হয়েছে। ব্রোকার, তালিকাভুক্ত কোম্পানি এবং নিরীক্ষকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং কর্পোরেট সুশাসন জোরদারের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


