যেভাবে দিনের পর দিন বিনিয়োগকারীরা পুঁজি হারাচ্ছেন তাতে শেয়ারবাজারের ভবিষ্যত নিয়ে নানা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যারা দায়িত্ব পালন করছেন তারাও কোন ক্লিয়ার মেসেজ দিচ্ছেন না। ধীরে ধীরে শেয়ারবাজারকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) শুধু ধরপাকড় কার্যক্রম চালাচ্ছে। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের লোকসান কাটানোর কোন পরিবেশ তৈরি করছে না।
প্রতিদিনই শেয়ারবাজারের বেহাল অবস্থা দেখে চাপা ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন বিনিয়োগকারীরা। তাদের আর্তনাদ শোনার মতো কেউ নেই।
গেল কয়েকদিন সূচক বৃদ্ধি পেলেও কমেছে বেশিরভাগ শেয়ার দর। গতকাল সূচকের ব্যাপক দরপতন হয়েছে। সেই সঙ্গে শেয়ারের দর কমার ধারাবাহিকতা ছিল আগের মতোই।
২৭টি কোম্পানিকে জেড ক্যাটাগরিতে দেওয়ার কারণে বাজারের যে ক্ষতি হলো তার মাসুল বিনিয়োগকারীরা দিচ্ছে। বন্ধ কোম্পানির শেয়ারে যারা বিগত ৫/৭ বছর আটকে আছে তারা কি করবে? তাদের পুঁজি কি একবারে শেষ হয়ে যাবে? একটা কোম্পানি লুটপাট করে শেষ করে দিবে কেউ কিছু বলবেনা। দিন শেষে সাধারন বিনিয়োগকারী এর মাসুল দিবে কেন? এটা কোন সমাধান নয়। দোষ করলো কোম্পানির পরিচালকরা আর সাজা ভোগ করবে সাধারন বিনিয়োগকারীরা। কোম্পানিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে না পাঠিয়ে মালিকপক্ষকে শাস্তি দিন। কোম্পানির পরিচালনা পরিবর্তন করুন। ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে গেলে কোম্পানির লোকসান নেই। লোকসান সব বিনিয়োগকারীদের।
প্রখ্যাত বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের একটি উক্তি আছে “প্রত্যেকেই একজন জিনিয়াস। কিন্তু আপনি যদি মাছকে গাছে উঠার ক্ষমতা দিয়ে বিচার করেন, তাহলে সারাজীবন সে নিজেকে বোকাই ভাববে”।
আসলে যার যেটায় প্রতিভা- সেটায় সুযোগ পেলে দুনিয়ায় অসফল মানুষের তুলনায় সফলদের সংখ্যা ভারী হতো।
পুঁজিবাজারে লিস্টেড কোন প্রতিষ্ঠান যদি লভ্যাংশ ঘোষণা করে বিনিয়োগকারীদের হিসেবে লভ্যাংশ না দেয়- তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিককে আইনের আওতায় আনা উচিৎ। এর জন্য ওই প্রতিষ্ঠানকে জেডে পাঠিয়ে কেন বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠান এর লভ্যাংশ দেখে শেয়ার কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর দায় ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদকেই নিতে হবে।
কোম্পানি জেডে পাঠানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এটি কোন সুফল বয়ে আনবে না। প্রয়োজনে পরিচালনা বোর্ড ভেঙে দিন। অসৎ ও অযোগ্য পর্ষদ পুনর্গঠন করুন।


