নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের স্বচ্ছতা রক্ষা ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আইপিও জালিয়াতি ও অনিয়মের দায়ে বিতর্কিত মার্চেন্ট ব্যাংক শাহজালাল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড-এর লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫) অনুষ্ঠিত বিএসইসির ৯৭৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এর মাধ্যমে কমিশন আবারও স্পষ্ট করেছে যে, শেয়ারবাজারে দুর্নীতি ও প্রতারণার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান হবে কঠোর।
তদন্তে ফাঁসলো শাহজালাল ইক্যুইটির অনিয়ম
বিএসইসির তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, একমি পেস্টিসাইডস লিমিটেডের আইপিও প্রক্রিয়ায় ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় শাহজালাল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ব্যাপক অনিয়ম করেছে।
তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগসমূহ হলো:
-
টাকা না নিয়েই কয়েক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্রি-আইপিও প্লেসমেন্ট শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া।
-
প্রসপেক্টাসে মিথ্যা তথ্য সংযোজন।
-
আর্থিক প্রতিবেদন ও হিসাবের কারসাজি।
কমিশন বলছে, একজন ইস্যু ম্যানেজারের দায়িত্ব ছিল এসব তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা। কিন্তু শাহজালাল ইক্যুইটি তা না করে জালিয়াতিপূর্ণ প্রসপেক্টাসকে অনুমোদন দিয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ।
ইউনুস গ্রুপ ও প্রভাবশালীদের যোগসাজশ
তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। দেখা গেছে, ইউনুস গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ-এর এই মার্চেন্ট ব্যাংকের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন সাবেক কর কর্মকর্তা মতিউর রহমান। তিনি শাহজালাল ইক্যুইটির অলিখিত উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করতেন।
অভিযোগ রয়েছে, মোহাম্মদ ইউনুস ও মতিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি চক্র দুর্বল কোম্পানিগুলোকে আইপিওর মাধ্যমে বাজারে এনে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
এর আগেও ইউনুস গ্রুপের আরেক প্রতিষ্ঠান সোনালী পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস লিমিটেড-এর শেয়ারের দরে অস্বাভাবিক কারসাজির ঘটনা ধরা পড়ে, যেখানে বিএসইসি ইতোমধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতামত
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে। তবে তারা মনে করছেন, বড় বড় প্রভাবশালী চক্র ভেঙে না দিলে বাজারে স্বচ্ছতা আনা কঠিন হবে।
বিএসইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাজারে প্রতারণা ও কারসাজি রোধে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। অস্বাভাবিক কোনো লেনদেন বা অনিয়ম ধরা পড়লে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


