পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও সংস্কারের রোডম্যাপ সবার আগে

বিনিয়োগকারীদের বাঁচাতে হবে

সময়: সোমবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৪ ১০:০২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

দেরিতে হলেও পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও সংস্কারের রোডম্যাপ নির্ধারণে স্টেকহোল্ডারদের পাশে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বিএসইসি বুঝতে পেরেছে যে, সার্বিক দিক বিবেচনায় এবার বাজার উন্নয়নে একক কোন সিদ্ধান্ত নয় বরং স্টেকহোল্ডারদের সম্পৃক্ত করে শেয়ারবাজারকে গতিশীল করতে হবে। সে কারণে আগামী ১ অক্টোবর শীর্ষ সিকিউরিটিজ হাউজসহ সকল স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বৈঠকে সামনে পুঁজিবাজারকে কিভাবে গতিশীলতার সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া যায় সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিএসইসির এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।

কারণ পুঁজিবাজারের স্টেকহোল্ডার বা অংশীজনদের সঙ্গে নিয়েই বাজারের টেকসই উন্নয়ন ও সংস্কার বাস্তবায়ন সম্ভব। দেশের পুঁজিবাজারের সর্বক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত করে বিনিয়োগের জন্য আদর্শ ক্ষেত্র হিসেবে পুঁজিবাজারকে প্রতিষ্ঠিত করতে কমিশন কাজ করে যাচ্ছে। তবে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও তাদের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিতে কমিশনের যে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তারা জানিয়েছে তার বাস্তব চিত্র দেখা যাচ্ছে না।

বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিতে কমিশন প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে। পুঁজিবাজারের অনিয়ম দূর করতে কমিশন নিয়মিত মনিটরিং, সার্ভিলেন্স, রেগুলেটরি কমপ্লায়েন্সসহ বাজারের কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে। বিএসইসির এসব কার্যক্রম অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু দিনশেষে দেখতে হবে বিনিয়োগকারীরা কি পাচ্ছে।

বিনিয়োগকারীদের প্রথম চাহিদা হচ্ছে লোকসান কাটানো। তারপর মুনাফার চিন্তা। যে পরিমাণ লোকসানে বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা জড়িয়ে পড়েছে বিগত কোন সময়ে এতো লোকসান তাদের হয়নি। প্রতিদিন লেনদেন শেষে হাউজ থেকে বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিও মেইলে পাঠানোর আগেই অজানা আতঙ্ক বিরাজ করে “আজ না জানি কতো লোকসান বাড়লো”।

তাই পুঁজিবাজারের উন্নয়ন হোক এবং সংস্কারের রোডম্যাপ হোক যাই করা হোক না কেন সবার আগে বিনিয়োগকারীদের বাঁচাতে হবে। বিগত কমিশনের আমলেও অনেক আইন প্রণয়ন হয়েছে। অনেক সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের একটি আস্থাশীল পুঁজিবাজার দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই বর্তমান কমিশনকে আগের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে এগুতে হবে। বাজারকে চাঙ্গা রেখে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও সংস্কারে হাত দিলে বিনিয়োগকারীদের কোন আপত্তি থাকবে না। পুঁজিবাজারের সংস্কার হলো কিংবা উন্নয়নের নামে নানা আইন প্রণয়ন হলো কিন্তু শেয়ারবাজার চাঙ্গা হলো না তাতে কি কোন লাভ হবে? তাই আগের দায়িত্বে যারা ছিলেন তাদেরই মতোই যেন বর্তমান কমিশনকে বিবেচনা না করা হয় সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

Share
নিউজটি ৩৮৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged