নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজার উন্নয়নে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী।
তিনি বলেন, “সরকার বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চায় এবং পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে প্রস্তাবিত বাজেটে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ রাখা হবে।”
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মাল্টিপারপাস হলে সাধারণ বিনিয়োগকারী সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ, কমিশনার মো. মোহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, নির্বাহী পরিচালক ও বিভিন্ন পর্যায়ের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। বিনিয়োগকারী সংগঠনগুলোর পক্ষে সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও শীর্ষ নেতারা আলোচনায় অংশ নেন।
বিনিয়োগকারীদের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলো:
বিএসইসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিরা দেশের পুঁজিবাজারের সংকট উত্তরণে যেসব প্রস্তাব তুলে ধরেন, তা হলো:
তারল্য সংকট নিরসনে নতুন ফান্ড ও প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করা
ডিভিডেন্ড ট্যাক্স ও ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স মওকুফের প্রস্তাব
‘বাইব্যাক আইন’ চালু করে কোম্পানিকে শেয়ার পুনঃক্রয়ের সুযোগ দেওয়া
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
ক্যাটাগরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীর ক্ষতি রোধে নীতিমালা
অনিয়ম ও কারসাজির বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ ও দ্রুত তদন্ত
আইসিবি’র বাজার সহায়ক ভূমিকা কার্যকর করা
মিউচ্যুয়াল ফান্ডের উন্নয়ন ও ভালো কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তিতে উদ্যোগ
স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ
অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ বজায় রাখা ও আর্থিক বিবরণীর স্বচ্ছতা নিশ্চিত
পুঁজিবাজারবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃস্থাপন
পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন ধরে চলমান আস্থাহীনতা, তারল্য ঘাটতি ও নীতিগত অস্পষ্টতার কারণে বিনিয়োগকারীরা চাপে ছিলেন। সরকারের পক্ষ থেকে বাজেটে সহায়ক উদ্যোগের ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হতে পারে।
বাজেট ঘিরে এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে শেয়ারবাজারে নতুন গতি আসতে পারে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আস্থা সৃষ্টি হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


