বিনিয়োগকারীর অর্থ সুরক্ষায় দৃঢ় পদক্ষেপ: বিএসইসি মোহরম সিকিউরিটিজে কঠোর ব্যবস্থা

সময়: শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ ৬:৩২:২৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্রাহকের আমানত বা কাস্টমার ফান্ডের অর্থ তছরুপের অভিযোগে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এর ট্রেকহোল্ডার মোহরম সিকিউরিটিজ লিমিটেড (ট্রেক-১০৮)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সব পরিচালকের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ কার্যকর করতে কমিশন সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)-এর অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে।

বিএসইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য ব্যক্তিরা হলেন—মোহরম সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মুছা, এবং পরিচালক আফছারুজ্জামান ও হালিমা পারভীন। ২০২৩ সালে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠার পর কমিশন একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন, এবং এতে সিএসইর প্রতিনিধি ছিলেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রাথমিকভাবে গ্রাহকের অর্থ সরানোর সত্যতা পাওয়া যাওয়ায় দেশত্যাগ রোধে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কনসলিডেটেড কাস্টমার অ্যাকাউন্ট (সিসিএ) সুরক্ষা এখন পুঁজিবাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। নিয়ম অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনাবেচার জন্য যে অর্থ জমা দেন তা সিসিএ-তে নিরাপদে থাকা উচিত। তবে অভিযোগ রয়েছে, কিছু হাউজ ওই তহবিল থেকে অর্থ সরিয়ে ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করছে। মোহরম সিকিউরিটিজ ছাড়াও সিএসইর আরও তিনটি হাউজ—সিলেট মেট্রো সিটি, ট্রেন্ডসেট সিকিউরিটিজ এবং ফার্স্ট লিড সিকিউরিটিজ-এর বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে।

এই অনিয়ম কেবল সিএসইতে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর সদস্যভুক্ত বানকো সিকিউরিটিজ, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ এবং তামহা সিকিউরিটিজ-এর বিরুদ্ধে প্রায় ১০,৯০০ বিনিয়োগকারীর ১৭৭ কোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগ বিচারাধীন রয়েছে। ডিএসইর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কিছু ব্রোকারেজ হাউজের মালিকরা গ্রাহকের অর্থ নিজেদের ব্যবসা বা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছেন, যার ফলে বহু বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীর অর্থ সুরক্ষিত না থাকলে পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফিরানো সম্ভব নয়। নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ার আগে কমিশনের এই দৃশ্যমান পদক্ষেপ বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে। বিএসইসি মনে করছে, গ্রাহকের অর্থ আত্মসাত কেবল বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং বাজারে তারল্য সংকটও সৃষ্টি করে। তাই অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা অন্য ব্রোকারেজ হাউজগুলোর জন্যও সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে এবং বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদার করবে।

 

Share
নিউজটি ৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged