নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগকারী সুরক্ষা জোরদারে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আইন ২০২৫-এর খসড়ায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সংশোধিত আইনে শেয়ার কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং বিএসইসির বোর্ড গঠনে স্বতন্ত্র নিয়োগ পদ্ধতির প্রস্তাব এসেছে, যা পুঁজিবাজারের সুশাসন নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
? মূল সংবাদ:
পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং শেয়ারবাজারে কারসাজি বন্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আইন, ২০২৫-এর খসড়ায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এই খসড়া মতামতের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় পাঠানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, কেউ যদি প্রতারণা, সুবিধাভোগী ব্যবসা, বাজার কারসাজি বা অন্য যেকোনো অসদুপায়ে সিকিউরিটিজ কেনাবেচায় প্ররোচনা দেন, তবে তা শেয়ার কারসাজির আওতায় পড়বে। বর্তমানে এই অপরাধের শাস্তি সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা থাকলেও নতুন আইনে তা দ্বিগুণ করে ১০ বছর কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল শাস্তির মাত্রা বাড়ালেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও আইসিবির বোর্ড চেয়ারম্যান ড. আবু আহমেদ মন্তব্য করেন, “যারা কারসাজিতে জড়িত, তারা আইনের ফাঁকফোকর জানে। তাই শাস্তির পাশাপাশি নীতিগত সংস্কার দরকার।”
তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের অবাধে মার্জিন লোন গ্রহণ সীমিত করতে হবে এবং প্লেসমেন্ট শেয়ার প্রথা বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি ভালো মিউচুয়াল ফান্ডগুলোতে কমিশনের সুবিধা বাড়িয়ে মৌলভিত্তিক কোম্পানির শেয়ারে চাহিদা তৈরি করাই হবে টেকসই সমাধান।
এছাড়া প্রস্তাবিত আইনে বিএসইসির চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বর্তমানে সরকার সরাসরি নিয়োগ দিলেও, খসড়া অনুযায়ী একটি স্বাধীন বাছাই কমিটির মাধ্যমে এই নিয়োগ কার্যকর হবে।
এই কমিটির সভাপতির দায়িত্বে থাকবেন প্রধান বিচারপতির মনোনীত একজন আপিল বিভাগের বিচারপতি। অন্যান্য সদস্যরা হলেন—বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব। কমিশনার নিয়োগের সময় বিএসইসির বর্তমান চেয়ারম্যানও এই কমিটিতে থাকবেন।
কমিটি প্রত্যেক পদের জন্য দুজন প্রার্থীর নাম সুপারিশ করবে এবং সেখান থেকে সরকার একজনকে নিয়োগ দেবে। নতুন আইনে চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের জন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমপর্যায়ের বেতন-ভাতা ও সুবিধার বিধান রাখা হয়েছে।
এই আইনি সংস্কারের মাধ্যমে দেশের শেয়ারবাজারে সুশাসন, জবাবদিহিতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সক্ষম হবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট মহল।


