নিজস্ব প্রতিবেদক: বিনিয়োগকারীদের অধিকার ও অর্থ সুরক্ষার লক্ষ্যে শেয়ারবাজারের ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড (সিএমএসএফ) নতুন আইনি কাঠামোতে সংবিধিবদ্ধ তহবিলে রূপ নিতে যাচ্ছে। এই রূপান্তরের মাধ্যমে সিএমএসএফ শুধু নতুন নাম নয়, পাবে নতুন পরিচালন কাঠামো ও আরও শক্তিশালী আইনি ভিত্তি।
সম্প্রতি অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই প্রস্তাব উত্থাপন করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি)। বৈঠকে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোর প্রতি সম্মতি জানিয়েছেন উপদেষ্টা। এর ফলে ডিভিডেন্ড বিতরণ, কর সংগ্রহ এবং বিনিয়োগকারীদের দাবির নিষ্পত্তি আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সিএমএসএফ-এর বর্তমান কাঠামোতে দাবিহীন ডিভিডেন্ড থেকে ইক্যুইটিতে বিনিয়োগের সুযোগ থাকলেও, সংবিধিবদ্ধ কাঠামোর অধীনে এ ধরনের বিনিয়োগ নিষিদ্ধ হতে পারে। ভবিষ্যতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির নগদ ডিভিডেন্ড বিতরণ সরাসরি এই তহবিলের মাধ্যমে সম্পন্ন হতে পারে।
সিএমএসএফ-এর এক কর্মকর্তা জানান, “একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো থাকলে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোকে অবন্টিত ডিভিডেন্ড হস্তান্তরে বাধ্য করা যাবে। বর্তমানে ব্যাংকগুলো প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার ডিভিডেন্ড সিএমএসএফে জমা দিতে অনীহা দেখাচ্ছে।”
এর আগে সিএমএসএফ থেকে বিনিয়োগকারীদের অর্থ সরকারি কোষাগারে স্থানান্তরের একটি প্রস্তাব উঠলেও, বিএসইসি ও এফআইডি তা নাকচ করে দেন। তাঁদের মতে, সিএমএসএফে জমাকৃত অর্থ বিনিয়োগকারীদের, যা উত্তরাধিকারীরাও যে কোনো সময় দাবি করতে পারেন। তাই এই অর্থ সরকারের খাতে নেওয়া অনুচিত।
২০২১ সালের জুনে সিএমএসএফ কার্যক্রম শুরু করে। এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল অবণ্টিত ডিভিডেন্ড ও অন্যান্য দাবিহীন অর্থ সংরক্ষণ করে বাজারে তারল্য সরবরাহ এবং বিনিয়োগকারীদের দাবির নিষ্পত্তি। তবে তহবিল গঠনের পর ইস্যুকারী কোম্পানিগুলোর অনীহা ও আইনি দুর্বলতা তা বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
গত বছর মধুমতি ব্যাংকের মাধ্যমে এক এফসি (বৈদেশিক মুদ্রা) অ্যাকাউন্ট খোলার চেষ্টা করে সিএমএসএফ, যাতে অনাবাসী বাংলাদেশিদের ডিভিডেন্ড পাঠানো যায়। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক আইনগত ভিত্তি দুর্বল উল্লেখ করে সেই উদ্যোগ স্থগিত করে দেয়।
এ প্রেক্ষাপটে সিএমএসএফের আইনি অবস্থান মজবুত করতে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত একটি অধ্যাদেশ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন কাঠামোর আওতায় বিনিয়োগকারীদের অর্থ দিয়ে আর কোনো সরাসরি বিনিয়োগ কিংবা মিউচুয়াল ফান্ড পৃষ্ঠপোষকতা করা হবে না বলে জানিয়েছেন সিএমএসএফ কর্মকর্তারা।
সিএমএসএফ আগে আইসিবি এএমসিএলের মাধ্যমে একটি মিউচুয়াল ফান্ডে (সিএমএসএফ গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ড) বিনিয়োগ করেছিল, যা পরে বাজারে ‘নিয়ন্ত্রক প্রভাব’ সংক্রান্ত বিতর্কের জন্ম দেয়।


