বিনিয়োগে নতুন নিয়ম: পাঁচ লাখ টাকার নিচে বিনিয়োগকারীরা আর পাবেন না মার্জিন সুবিধা

সময়: শনিবার, নভেম্বর ৮, ২০২৫ ১০:৫৩:৪৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের ঋণ সুবিধা বা মার্জিন লোন প্রদানে বড় ধরনের পরিবর্তন আনলো বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫’ নামে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে ১৯৯৯ সালের পুরাতন মার্জিন বিধিমালা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে পুরোনো বিধিমালার অধীনে ইতোমধ্যে নেওয়া আইনগত ব্যবস্থা বা নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া পুরাতন নিয়মেই সম্পন্ন হবে বলে পৃথক এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো বিনিয়োগকারী তার নিজস্ব মূলধনের চেয়ে বেশি ঋণ সুবিধা নিতে পারবেন না। অর্থাৎ গ্রাহকের ইক্যুইটির সমপরিমাণের বেশি মার্জিন লোন দেওয়া যাবে না। বিনিয়োগকারীর ন্যূনতম ইক্যুইটি থাকতে হবে পাঁচ লাখ টাকা, এবং গত এক বছরে গড়ে এই পরিমাণ বিনিয়োগ বজায় রাখতে হবে।

পাঁচ লাখ টাকার নিচে বিনিয়োগ থাকলে মার্জিন লোন পাওয়া যাবে না। যাদের বিনিয়োগ ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার মধ্যে, তারা সর্বোচ্চ ১:০.৫ অনুপাতে ঋণ সুবিধা পাবেন, আর ১০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগকারীরা পাবেন ১:১ অনুপাতে মার্জিন সুবিধা।

এছাড়া বাজারের পিই (Price-Earnings) অনুপাত ২০-এর বেশি হলে, সেক্ষেত্রেও মার্জিন অনুপাত হবে ১:০.৫। অর্থাৎ বাজার অতিমূল্যায়িত থাকলে বিনিয়োগকারীরা ইক্যুইটির অর্ধেক পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন।

বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, ছাত্রছাত্রী, গৃহিণী ও সাধারণ অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা কোনো অবস্থাতেই মার্জিন সুবিধা নিতে পারবেন না। তবে অর্থসচ্ছল অবসরপ্রাপ্ত বিনিয়োগকারীরা এই সুবিধার আওতায় থাকবেন।

মার্জিন লোন শুধুমাত্র ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরির শেয়ার ক্রয়ে প্রযোজ্য হবে। তবে ‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোকে অন্তত ৫ শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে হবে।

লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির শেয়ার কেনায় মার্জিন অনুপাত নির্ধারণ করা হয়েছে ১:০.২৫, অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা সর্বোচ্চ এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন। তবে যদি ওই কোম্পানির হালনাগাদ অ্যাকচুয়ারিয়াল ভ্যালুয়েশন না থাকে, তাহলে কোনো অবস্থায়ই মার্জিন সুবিধা দেওয়া যাবে না।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—যেসব কোম্পানির ফ্রি-ফ্লোট মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন ৫০ কোটি টাকার কম, তাদের শেয়ার ক্রয়ে কোনো মার্জিন লোন দেওয়া যাবে না।

গ্রাহকের ইক্যুইটি সব সময় মার্জিন অর্থায়নের ৭৫ শতাংশ বা পোর্টফোলিও মূল্যের ১৭৫ শতাংশের নিচে নামলে তিন কর্মদিবসের মধ্যে তা সমন্বয় করতে হবে, না হলে অ্যাকাউন্টের লেনদেন স্থগিত থাকবে। আর ইক্যুইটি ৫০ শতাংশ বা পোর্টফোলিও ১৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে প্রতিষ্ঠান কোনো নোটিশ ছাড়াই ফোর্সড সেল করতে পারবে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালের পুরোনো মার্জিন নীতির আওতায় যেসব বিনিয়োগে এখন মার্জিন অযোগ্য শেয়ার রয়েছে, সেগুলো ছয় মাসের মধ্যে বিক্রি করে সমন্বয় করতে হবে।

এছাড়া যেসব বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিও মূল্য পাঁচ লাখ টাকার কম, তাদের এক বছরের মধ্যে তা পাঁচ লাখে উন্নীত করতে হবে, অন্যথায় তাদের মার্জিন অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে বিধিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

Share
নিউজটি ১৪৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged