নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেও (জুলাই-ডিসেম্বর) লোকসান থেকে বের হতে ব্যর্থ হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে গতকাল প্রকাশিত সংশোধিত আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটি মোট ৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা নিট লোকসান করেছে।
কোম্পানিটির লোকসানের প্রধান কারণ হিসেবে উৎপাদিত পণ্যের বিক্রয়মূল্য হ্রাস এবং ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ ব্যয়কে দায়ী করা হয়েছে। ফলে প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজস্ব ও মুনাফা বৃদ্ধি সম্ভব হয়নি।
সংশোধিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার প্রতি লোকসান (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৩৮ পয়সা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে এই লোকসান ছিল শেয়ারপ্রতি ৯৯ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে লোকসানের পরিমাণ আরও বেড়েছে।
তবে এই সময় শেয়ার প্রতি নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো কিছুটা উন্নতি দেখিয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো দাঁড়িয়েছে মাইনাস ১৩ পয়সা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল মাইনাস ১ টাকা ৪৯ পয়সা।
উল্লেখ্য, এর আগে প্রকাশিত প্রাথমিক ডিসক্লোজারে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ৬১ পয়সা লোকসানের তথ্য দিয়েছিল, যা পরবর্তীতে সংশোধন করা হয়।
এদিকে গত বছরের সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক চুক্তি স্বাক্ষর করে মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ। ওই চুক্তি অনুযায়ী, বিসিআইসির প্রয়োজনীয় ওভেন পলিপ্রোপিলিন ও পলিথিন ব্যাগের ৫০ শতাংশ সরবরাহ করার দায়িত্ব পায় কোম্পানিটি। সে সময় ধারণা করা হয়েছিল, এই অর্ডারের মাধ্যমে কোম্পানির রাজস্ব দ্বিগুণ হবে এবং মুনাফায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তবে বর্তমান আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন এখনো কোম্পানির আয় ও মুনাফায় দেখা যায়নি।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৫ সালে বিসিআইসি ও চারজন উদ্যোক্তার যৌথ উদ্যোগে মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি মূলত সিমেন্ট, সার, লবণ, চিনি, খাদ্যশস্য ও বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যাগ উৎপাদন করে থাকে। গাজীপুর ও শ্রীপুরে অবস্থিত কোম্পানিটির দুটি উৎপাদন ইউনিট রয়েছে—একটি স্থানীয় বাজারের জন্য এবং অপরটি রপ্তানিমুখী উৎপাদনে নিয়োজিত।
বিসিআইসি প্রধান ক্রেতা হলেও উচ্চ উৎপাদন ব্যয় এবং বাজারজাতকরণে নানামুখী প্রতিবন্ধকতার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছে মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


