বেক্সিমকো সুকুকের মেয়াদ বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

সময়: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৭, ২০২৫ ১:৪২:২৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার কথা থাকা বেক্সিমকোর ৩ হাজার কোটি টাকার গ্রিন সুকুক নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বেড়েই চলেছে। সময় মতো মূলধন ফেরত পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি এবং ট্রাস্টি আইসিবি সুকুকটির মেয়াদ বাড়াতে ও শর্ত পুনর্বিন্যাসে একযোগে কাজ শুরু করেছে।

২০২১ সালে শরিয়াহ-সম্মত এ বন্ড চালু করা হয়। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিনিয়োগ নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের নেতৃত্বে একটি ১০ সদস্যের কমিটি এবং আইসিবির উদ্যোগে ২১ সদস্যের ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিগুলোর কাজ হচ্ছে ট্রাস্টি ও বিনিয়োগকারীদের মতামতের ভিত্তিতে সুকুকের মেয়াদ বাড়ানো ও শর্তপত্র পুনর্গঠন।

বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে সুকুকের জন্য গঠিত সিঙ্কিং ফান্ড, যেখানে ইতোমধ্যে জমা আছে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। বেক্সিমকোর তিস্তা সোলার প্রকল্প থেকে প্রতিমাসে প্রায় ৫০ কোটি টাকার আয় হচ্ছে। অন্যদিকে, করতোয়া প্রকল্প চালু হলে সেখানে থেকে আরও ৮–১০ কোটি টাকার মাসিক আয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে করতোয়ার কাজ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি এবং অতীতে আন্দোলনের সময় যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পুনঃস্থাপনে ১০–১২ কোটি টাকার অতিরিক্ত বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।

এদিকে সুকুকের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর রূপান্তরযোগ্যতা, তবে বেক্সিমকোর সাম্প্রতিক আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রূপান্তরের আগ্রহ অনেকটাই কম। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধে বেক্সিমকো লিমিটেড ৩৫৬ কোটি টাকার লোকসান করেছে এবং শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩ টাকা ৭৮ পয়সা, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও দুর্বল করেছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সুকুকে বিনিয়োগ করেছেন ৫ হাজার ৬০০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে রয়েছে ২০টির বেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। অনেক প্রতিষ্ঠানের একক বিনিয়োগই ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা পর্যন্ত। সময়মতো অর্থ ফেরত না পেলে এসব প্রতিষ্ঠানের উপর বড় অঙ্কের প্রভিশনিংয়ের চাপ তৈরি হবে, যা সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতাকেও প্রভাবিত করতে পারে।

তবে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, মেয়াদ বাড়ানো, শর্ত পুনর্গঠন এবং প্রকল্প থেকে রাজস্ব নিশ্চিত করতে পারলে সুকুককে ঘিরে তৈরি হওয়া সম্ভাব্য সংকট এড়ানো সম্ভব হবে। তারা বলছেন, এমন উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সহায়ক হতে পারে।

 

Share
নিউজটি ২৪২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged