বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ধাক্কায় জিপির পারফরম্যান্সে চাপের আভাস

সময়: মঙ্গলবার, মার্চ ২৪, ২০২৬ ৮:৩৪:৪০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত টেলিযোগাযোগ খাতের কোম্পানি গ্রামীণফোন পিএলসি (জিপি) জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ব্যবসায়িক পরিবেশেও পড়তে শুরু করেছে। এ অবস্থায় ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির আর্থিক পারফরম্যান্স মাঝারি মাত্রায় নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কোম্পানির প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, আমদানিনির্ভর জ্বালানি ও এলএনজির ওপর বাংলাদেশের উচ্চ নির্ভরশীলতার কারণে দেশটি বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতায় বিশেষভাবে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এর ফলে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা, জ্বালানি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং দেশজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও লজিস্টিক ব্যবস্থায় প্রাথমিক পর্যায়ের চাপের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

গ্রামীণফোন জানিয়েছে, সামগ্রিক পরিচালন পরিবেশ এখনও স্থিতিশীল থাকলেও এই পরিস্থিতি দেশের ইতোমধ্যে দুর্বল সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর আরও চাপ তৈরি করছে। এর প্রভাব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ভোক্তা আচরণে পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে মানুষের চলাচল, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং ব্যয়যোগ্য আয়ের ওপর চাপের প্রাথমিক ইঙ্গিত মিলছে। এর সঙ্গে মৌসুমি তীব্র ঝড় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এই প্রেক্ষাপটে কোম্পানিটি ধারণা করছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে তাদের রাজস্ব প্রায় ২ শতাংশ কমতে পারে। একই সঙ্গে ইবিটডা (EBITDA) প্রায় ৩ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে কোম্পানিটি।

গ্রামীণফোন আরও জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল এবং অনিশ্চিত। তাই উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর তারা নিবিড় নজরদারি করছে এবং সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। কোম্পানির প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে সেবা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অপারেশনাল সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখা, নেটওয়ার্কের শীর্ষস্থানীয় মান বজায় রাখা এবং এই সময়ে গ্রাহক ও সমাজকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া।

কোম্পানিটি বলেছে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের নির্ধারিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের সময় এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে টেলিযোগাযোগ খাতেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও গ্রামীণফোনের মতো বড় অপারেটর এখনও স্থিতিশীল পরিচালন পরিবেশের কথা বলছে, তবুও রাজস্ব ও ইবিটডায় সম্ভাব্য নিম্নমুখী প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হবে।

Share
নিউজটি ২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged