ব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ ৭ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়ালো

সময়: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২১, ২০২৫ ২:২৮:৫৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৪ সালের শেষে দেশের ব্যাংক খাতে দুর্দশাগ্রস্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ২ লাখ ৮১ হাজার কোটি টাকা বেশি। ২০২৩ সালের শেষে এই পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০২৪’-এ এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বছরে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের পরিমাণ ৪৪.২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় অর্ধেকের সমান হয়েছে। আইএমএফের সংজ্ঞা অনুযায়ী, খেলাপি ঋণ, পুনঃতফসিলকৃত ঋণ এবং অবলোপনকৃত (রাইট-অফ) ঋণ মিলেই ‘দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ’ হিসেবে ধরা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষে

খেলাপি ঋণের পরিমাণ: ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা

পুনঃতফসিলকৃত ঋণ: ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা

রাইট-অফ ঋণ: ৬২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্নীতি ও তদবিরের মাধ্যমে দেওয়া ঋণ বর্তমানে ব্যাপকভাবে খেলাপিতে রূপ নিয়েছে। আগে এসব তথ্য গোপন থাকলেও আইএমএফের চাপের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন নিয়মিতভাবে তা প্রকাশ করছে।

মূলধন ঘাটতি চরমে, সিআরএআর নেমেছে ৩.০৮ শতাংশে
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংক খাত চরম চাপের মুখে পড়ে, বিশেষ করে মূলধন পর্যাপ্ততার ক্ষেত্রে। ক্যাপিটাল টু রিস্ক-ওয়েইটেড অ্যাসেট রেসিও (সিআরএআর) মাত্র ৩.০৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যেখানে ন্যূনতম মান হওয়া উচিত ১০ শতাংশ। সবচেয়ে সংকটপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক এবং একাধিক ইসলামী ব্যাংক।

মূলধন অনুপাত ও লিভারেজ অনুপাত যথাক্রমে ০.৩০ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গোটা ব্যাংক খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ঘাটতিকে স্পষ্ট করে।

তারল্য কিছুটা স্থিতিশীল, তবে চ্যালেঞ্জ বড়
তবে ব্যাংক খাতের তারল্য পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। অ্যাডভান্স-ডিপোজিট রেশিও (ADR) ৮১.৫৫ শতাংশে রয়েছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সীমার মধ্যে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, দেশের আর্থিক খাত সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও খেলাপি ঋণ, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট ও সুশাসনের অভাব এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সময়োপযোগী নীতিমালা, কঠোর তদারকি ও প্রযুক্তিনির্ভর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ছাড়া এই খাতকে স্থিতিশীল রাখা সম্ভব নয়।

 

Share
নিউজটি ১৩৯ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged