ব্যাংকের শেয়ার কারসাজিতে তিন বিনিয়োগকারীর ওপর ৪ কোটি ৫১ লাখ টাকার জরিমানা

সময়: বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১১, ২০২৫ ৮:৩৯:১৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: মিডল্যান্ড ব্যাংকের শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর অভিযোগে তিন বিনিয়োগকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। শেয়ারবাজার কারসাজির প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি মোট ৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে।

বিএসইসি জানিয়েছে, কুয়েস্ট এশিয়া ওভারসিজ, প্রতিষ্ঠানটির মালিক আনিছুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী নাহার-ই-জান্নাত—এই তিন পক্ষ পরিকল্পিতভাবে মিডল্যান্ড ব্যাংকের শেয়ারের দর বাড়ানোর প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন। এর মধ্যে কুয়েস্ট এশিয়াকে সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা, আনিছুল ইসলামকে ৮০ লাখ টাকা এবং নাহার-ই-জান্নাতকে ১ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হবে।

৬ মাসে ১৭.৯৯% লেনদেন নিয়ন্ত্রণে নেয় কারসাজি চক্র

বিএসইসির তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে কুয়েস্ট এশিয়া ও তাদের সহযোগীরা পাবলিক ও ব্লক—উভয় মার্কেটে মিডল্যান্ড ব্যাংকের ২ কোটি ১৯ লাখ শেয়ার ক্রয় এবং ১ কোটি ৭৩ লাখ শেয়ার বিক্রি করেন। এই সময়ে তারা ব্যাংকের মোট শেয়ারের ১৭.৯৯ শতাংশ লেনদেনে জড়িত ছিলেন।

নিয়ন্ত্রকের তথ্য অনুসারে, এত বিশাল লেনদেনচাপের ফলে মিডল্যান্ড ব্যাংকের শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। শেয়ারটির মূল্য ১২৩ শতাংশ বেড়ে সর্বোচ্চ ২৭ টাকা ৬০ পয়সাতে পৌঁছায়। এই কারসাজির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট গ্রুপটি প্রায় ৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা মূলধনী মুনাফা অর্জন করে।

বিনিয়োগকারীদের ‘সবুজ অঞ্চলের’ যুক্তি প্রত্যাখ্যান

বিএসইসিতে শুনানির সময় আনিছুল ইসলাম দাবি করেন, একটি পত্রিকায় মিডল্যান্ড ব্যাংকের শেয়ার “সবুজ অঞ্চলে” অবস্থান করছে—এমন খবর দেখে তারা আগ্রহী হন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই লেনদেন করেন। তার ভাষ্য, তাদের উদ্দেশ্য শেয়ারদর কারসাজি নয়; বরং বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং লাভ নিশ্চিত করা।

তিনি আরও জানান, কোনো একক কোম্পানির দৈনিক লেনদেনে নির্দিষ্ট সীমা আছে—এমন নিয়ম তারা জানতেন না।

তবে কমিশন এসব যুক্তি গ্রহণ করেনি। বিএসইসির মূল্যায়নে দেখা যায়, তারা একক সিকিউরিটিতে অতিরিক্ত লেনদেন সীমা ভঙ্গ করেছেন এবং পরিকল্পিতভাবে শেয়ারের দরে অস্বাভাবিক প্রভাব ফেলেছেন।

আইন কী বলে

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ধারা ১৭ অনুযায়ী, নিজের স্বার্থে কোনো সিকিউরিটির ক্রয়-বিক্রয়কে প্রভাবিত করা বা কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম ওঠানামা করানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

Share
নিউজটি ৬৮ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged