ব্যাংক ঋণ ব্যবহার করে শেয়ারবাজারে কারসাজি? নতুন করে আলোচনায় সালমান এফ রহমান

সময়: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৫ ৮:৪৩:২৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের শেয়ারবাজার আবারও বড়সড় আলোচনায় এসেছে বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার ও সরকারের বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান-এর বিরুদ্ধে নতুন শেয়ার কারসাজি ও অর্থপাচারের অভিযোগ ওঠার পর। সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য।

অভিযোগের ভিত্তি
বিএসইসি জানিয়েছে, তদন্ত শুরু করা হয়েছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সালমান রহমানের সঙ্গে সম্পৃক্ত আটটি কোম্পানি ও ৩৪ জন ব্যক্তি প্রায় ৬ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছে, যার মধ্যে প্রাথমিক অনুসন্ধানে শেয়ার কারসাজির স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে।

তদন্তে উঠে আসা তথ্য
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, বেশ কয়েকটি অস্তিত্বহীন বা কাগুজে কোম্পানির নামে ব্যাংক ঋণ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আইএফআইসি ব্যাংকও যুক্ত ছিল, যখন সেই ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন সালমান এফ রহমান। ঋণ নেওয়া টাকার বড় অংশ সংশ্লিষ্ট কোম্পানির অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে পরে শেয়ারবাজারে ব্যবহার করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এই বিনিয়োগের মাধ্যমে মূলত বেক্সিমকো গ্রুপসহ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারদর কৃত্রিমভাবে বাড়ানো হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করেছে।

তদন্তাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো
তদন্ত কমিটির আওতায় আসা কোম্পানিগুলো হলো—

অ্যাবসোলুট কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং

অ্যাপোলো ট্রেডিং লিমিটেড

বেক্সিমকো হোল্ডিংস লিমিটেড

জুপিটার বিজনেস লিমিটেড

নিউ ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড

ক্রিসেন্ট লিমিটেড

সেন্ট্রাল ল্যান্ড অ্যান্ড বিল্ডিং লিমিটেড

ট্রেড নেক্সট ইন্টারনাল লিমিটেড

বন্ড সংক্রান্ত অনিয়মও তদন্তে
শুধু শেয়ার কারসাজি নয়, বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক ও আইএফআইসি আমার বন্ড-সংক্রান্ত অনিয়মও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী,

২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক বন্ডের মাধ্যমে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে।

একই সময়ে আইএফআইসি গ্যারান্টেড শ্রীপুর টাউনশিপ জিরো কুপন বন্ড এর মাধ্যমে আরও ১ হাজার কোটি টাকা তোলা হয়েছে।

যদিও আইএফআইসি ব্যাংক শুধুমাত্র গ্যারান্টারের ভূমিকা পালন করেছে, তবুও বেক্সিমকো এটিকে “আইএফআইসি আমার বন্ড” নামে বাজারজাত করে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করেছিল।

বিএসইসির প্রতিক্রিয়া
বিএসইসির মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন— “বিএফআইইউর প্রতিবেদনে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা থেকে স্পষ্ট যে শেয়ারবাজার ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যবহার করে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাতের একটি চক্র সক্রিয় ছিল। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

Share
নিউজটি ১৫৮ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged