ব্যাংক খাতে সংকট গভীরতর, ২৪ ব্যাংকের ঘাটতি ছাড়াল ১.৫৫ লাখ কোটি টাকা

সময়: রবিবার, নভেম্বর ৯, ২০২৫ ১:৪৯:০৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের ২৪টি ব্যাংক এখন মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে, যা ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতাকে গভীর সংকটে ফেলেছে। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, প্রভিশন ঘাটতি এবং নিরাপত্তা সঞ্চিতি পূরণে ব্যর্থতার কারণে ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ২৪টি ব্যাংকের মোট মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। যা গত মার্চের ২৩ ব্যাংকের ঘাটতি—১ লাখ ১০ হাজার ২৬০ কোটি টাকার তুলনায় অনেক বেশি।

নতুনভাবে ঘাটতির তালিকায় যুক্ত হয়েছে এনআরবিসি ব্যাংক ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক। তবে বিদেশি খাতের হাবিব ব্যাংক ঘাটতি থেকে মুক্ত হয়েছে। এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া জানিয়েছেন, “গত বছরের ডিসেম্বর শেষে এনআরবিসি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ছিল ৫ শতাংশ, যা বর্তমানে বেড়ে ২৮.৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণের কারণে মূলধন ঘাটতি দেখা দিয়েছে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন আরও জানায়, আগের সরকারের আমলে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বিপুল অঙ্কের ঋণ খেলাপি হলেও তা গোপন রাখা হয়েছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সেই তথ্য প্রকাশ করায় দেশের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় সাত লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এর প্রভাবে অনেক ব্যাংক চাহিদামতো নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখতে পারছে না।

ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের অনুপাত (CRAR) জুন শেষে কমে দাঁড়িয়েছে ৪.৪৭ শতাংশে, যেখানে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ন্যূনতম হার হওয়া উচিত ১০ শতাংশ। মার্চ শেষে এই অনুপাত ছিল ৬.৭৪ শতাংশ।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি (জুন ২০২৫):

  • কৃষি ব্যাংক: ২৯,১৬১ কোটি টাকা (সর্বোচ্চ)

  • জনতা ব্যাংক: ১৭,০২৫ কোটি টাকা

  • অগ্রণী ব্যাংক: ৭,৬৯৮ কোটি টাকা

  • রূপালী ব্যাংক: ৪,১৭৩ কোটি টাকা

  • বেসিক ব্যাংক: ৩,৭৮৩ কোটি টাকা

বেসরকারি ব্যাংকের ঘাটতি:

  • ন্যাশনাল ব্যাংক: ৮,৪৫৯ কোটি টাকা

  • এবি ব্যাংক: ৬,৭৭৫ কোটি টাকা

  • পদ্মা ব্যাংক: ৫,৬১৯ কোটি টাকা

  • আইএফআইসি ব্যাংক: ৪,০৫১ কোটি টাকা

  • বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক: ১,৮৭৮ কোটি টাকা

  • প্রিমিয়ার ব্যাংক: ১,৬৪০ কোটি টাকা

  • ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক: ১,৩৮৫ কোটি টাকা

  • এনআরবিসি ব্যাংক: ৩১৬ কোটি টাকা

  • সিটিজেন ব্যাংক: ৮৬ কোটি টাকা

  • সীমান্ত ব্যাংক: ৪৫ কোটি টাকা

শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের ঘাটতি:

  • ইউনিয়ন ব্যাংক: ২১,৩৮৭ কোটি টাকা

  • ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ: ১৮,৫০৪ কোটি টাকা

  • ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক: ১০,৫০১ কোটি টাকা

  • গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক: ৫,৫৫২ কোটি টাকা

  • সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক: ২,০৭৯ কোটি টাকা

  • আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক: ১,৯৭৫ কোটি টাকা

  • এক্সিম ব্যাংক: ৯০১ কোটি টাকা

  • আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক: ২৫৪ কোটি টাকা

বিশেষায়িত ব্যাংক:

  • কৃষি ব্যাংক: ২৯,১৬১ কোটি টাকা (সর্বোচ্চ)

  • রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক: ২,৬২০ কোটি টাকা

বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী জানান, “একসময় বেসিক ব্যাংক ভালো অবস্থায় ছিল। তবে পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ব্যাংকটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”

Share
নিউজটি ১৩৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged