ব্যাংক খাত সংস্কারে তাগিদ গভর্নরের, বাস্তবতা নিয়ে দ্বিধায় উপদেষ্টা

সময়: রবিবার, জানুয়ারি ২৫, ২০২৬ ১:১৭:১৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ১৯৭২ এবং ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের প্রতি এই আহ্বান জানান।

রাজধানীর একটি হোটেলে আজ ‘ব্যাংকিং খাতের সংস্কার’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে গভর্নর বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এসব আইন সংশোধন আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। সে কারণে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালেই আইন দুটির সংশোধন সম্পন্ন করা জরুরি।

তবে নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকায় এই স্বল্প সময়ের মধ্যে আইন সংশোধন কতটা বাস্তবসম্মত— সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অর্থ উপদেষ্টা। গভর্নরের বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। কিন্তু সময় খুবই সীমিত। ফলে কতটা অগ্রগতি সম্ভব হবে, তা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা কঠিন।”

বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জসহ দেশের সার্বিক শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ব্যাংকিং খাতের এই আইনি সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গভর্নর তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, ব্যাংক খাতে কাঙ্ক্ষিত শৃঙ্খলা ও সুশাসন ফেরাতে এখনই কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক যৌথভাবে এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। এতে অর্থ উপদেষ্টা প্রধান অতিথি এবং গভর্নর বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারাও আলোচনায় অংশ নেন।

বৈঠকে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা গভর্নরের প্রস্তাবিত সংস্কার উদ্যোগের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান। তারা বলেন, ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘদিনের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে আইনি কাঠামোর সংস্কার এখন সময়ের দাবি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই দেশের অর্থনীতি বিভিন্ন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, যার সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় আছে ব্যাংকিং খাত। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোর সুশাসন নিশ্চিত করা এবং ক্যাশ প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদ্যমান আইন কাঠামোর পরিবর্তন অপরিহার্য।

ব্যবসায়ী নেতারাও ব্যাংক খাতের মৌলিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে নানা সুপারিশ তুলে ধরেন। অর্থ উপদেষ্টা সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করলেও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানোর আশ্বাস দেন।

বৈঠকে উপস্থিত অতিথিরা আশা প্রকাশ করেন, ব্যাংকিং খাতের এই সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের আর্থিক খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।

Share
নিউজটি ৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged