দেশের দুর্বল ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রাথমিকভাবে পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করার রূপরেখা চূড়ান্ত করে শিগগিরই সরকারের কাছে চিঠি পাঠানো হবে। ওই চিঠিতে একীভূতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল এবং শেয়ারের ভবিষ্যৎ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য থাকবে। বিষয়টি সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বৈঠকে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
নতুন ব্যাংক রেজোলিউশন অর্ডিন্যান্স ২০২৫–এর আওতায় সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর চারটি ব্যাংকের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বৈঠকে উপস্থিত একজন চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকার দ্রুত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে এবং ব্যাংকগুলোকে চিঠি পাঠাবে। তবে এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম স্বপন দাবি করেন, তাকে বৈঠকে ডাকা হয়নি এবং তার ব্যাংক অন্যদের তুলনায় ভালো অবস্থায় আছে। তিনি বলেন, “আমরা একীভূতকরণের পক্ষে নই এবং আমাদের বাদ দেওয়ার অনুরোধ করেছি, কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা গ্রহণ করেনি।”
এর আগে জুন মাসে আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান কেপিএমজি এবং আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং-এর ফরেনসিক নিরীক্ষায় ব্যাংকগুলোর প্রকৃত আর্থিক দুর্বলতা উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তাদের খেলাপি ঋণের প্রকৃত পরিমাণ আগে দেখানো তথ্যের চেয়ে চার গুণ বেশি। এই ফলাফল প্রকাশের পরই বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেয়। মর্জার প্রক্রিয়া শুরু হলে ব্যাংকগুলোকে অস্থায়ীভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হবে।
বৈঠকে পাঁচ ব্যাংক আবারও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে তারল্য সহায়তা চাইলেও বাংলাদেশ ব্যাংক তা নাকচ করে দেয়। জানানো হয়, একীভূতকরণ চলাকালীন নতুন কোনো তহবিল সরবরাহ করা হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপ অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যাংক খাত স্থিতিশীল করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। ব্যাংক রেজোলিউশন অর্ডিন্যান্স ২০২৫ কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সংকটাপন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে।


