নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউজ হাজী আহমেদ ব্রাদার্স সিকিউরিটিজ লিমিটেড–এর বিরুদ্ধে বিশেষ তদন্ত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ উদ্দেশ্যে কমিশনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে কমিশনে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্রোকারেজ হাউজটির বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি প্রতিষ্ঠানটির ট্রেক সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তবে সেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে কার্যকর করার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং সার্বিক বিষয় যাচাই করতেই এই বিশেষ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে তদন্ত সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। আদেশটি হাজী আহমেদ ব্রাদার্স সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।
গঠিত তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন বিএসইসির উপপরিচালক শাহরিয়ার পারভেজ, সহকারী পরিচালক কুলসুম আক্তার এবং সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, কমিটি প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বিগত সরকারের সময়ে আইন লঙ্ঘনকারী অনেক ব্রোকারেজ হাউজের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন নতুন কমিশন গ্রাহক হিসাব ঘাটতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকা ব্রোকারেজ হাউজগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এই তদন্ত কার্যক্রমও সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএসইসির একজন কর্মকর্তা জানান, তদন্ত কমিটি ব্রোকারেজ হাউজটির কার্যক্রমে কোনো ধরনের অসঙ্গতি বা আইন লঙ্ঘন রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখবে। তদন্ত শেষে কমিশনের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএসইসির মতে, শেয়ারবাজার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থে হাজী আহমেদ ব্রাদার্স সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ট্রেক সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য এই তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর ধারা ১৭ক এবং সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০-এর বিধি ১২ (৩)–এর ক্ষমতাবলে এই তদন্ত পরিচালনার জন্য তিনজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটি প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থা, গ্রাহক হিসাব ব্যবস্থাপনা, সিকিউরিটিজ আইন পরিপালন এবং ট্রেক সার্টিফিকেট বাতিলের যৌক্তিকতা রয়েছে কি না—এসব বিষয় নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করবে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা ও গ্রাহক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিএসইসি নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়েছে। নিয়মিত পরিদর্শন, অনুসন্ধান ও তদন্তের মাধ্যমে অনিয়মে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গ্রাহকদের অর্থ ও সিকিউরিটিজ যথাযথভাবে সংরক্ষণ না হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে—এই অভিজ্ঞতা থেকেই কমিশন বর্তমানে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
বিএসইসি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, শেয়ারবাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থবিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসেবেই এ ধরনের তদন্ত কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। শেয়ারবাজারে অনিয়মের কোনো সুযোগ আর দেওয়া হবে না।


