মার্জিন ঋণ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করল বিএসইসি

সময়: মঙ্গলবার, অক্টোবর ২১, ২০২৫ ১:২৪:২৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংশোধিত মার্জিন ঋণ বিধিমালা নিয়ে ছড়িয়ে পড়া নানা গুজবের কারণে শেয়ারবাজারে সৃষ্ট আতঙ্ক নিরসনে বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিশনের বক্তব্য, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বাজারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, তবে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

গত সপ্তাহে এই গুজবের প্রভাবে শেয়ারবাজারে টানা দরপতন দেখা দেয়। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রবিবার ডিএসইএক্স সূচক ৭৫ পয়েন্ট হারায়, যদিও সোমবার সূচক ৬৭ পয়েন্ট ফিরে আসে, যা বাজারে আস্থা পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দেয়।

সোমবার (২০ অক্টোবর) বিএসইসি পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম এক বিবৃতিতে বলেন, “নতুন মার্জিন ঋণ বিধিমালার খসড়া প্রণয়নের সময় শেয়ারবাজারের সব অংশীজনের মতামত ও সুপারিশ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। বর্তমানে এটি চূড়ান্তকরণের পর্যায়ে রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিধিমালা অনুমোদনের পর বিনিয়োগকারী ও ব্রোকারদের মানিয়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হবে। কোনো বিনিয়োগকারী বা মধ্যস্থতাকারীকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হবে না।”

কমিশনের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, নতুন বিধিমালাটি এখন চূড়ান্ত পর্যালোচনায় রয়েছে। শেয়ারবাজারের টাস্কফোর্স ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছ থেকে মতামত নেওয়ার পর এটি অনুমোদনের জন্য কমিশনে উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদনের পর ৬ মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত ট্রানজিশন সময় দেওয়া হতে পারে, যাতে বাজারে কোনো আকস্মিক ধাক্কা না লাগে।

বিএসইসি মুখপাত্র আবুল কালাম আরও বলেন, “একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে গুজব ছড়িয়ে বাজারে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে। বিএসইসি বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি যোগ করেন, “বিধিমালা প্রণয়নে অংশীজনদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে, টাস্কফোর্সের কিছু প্রস্তাব বাস্তবায়নযোগ্য না হওয়ায় তা বাদ দেওয়া হয়েছে।”

বিএসইসি’র মুখপাত্রের ভাষায়, “শেয়ারবাজারে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কমিশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কঠোরভাবে কমপ্লায়েন্স পর্যবেক্ষণ করা হবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, বিএসইসি’র এই উদ্যোগ বাজারে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

 

Share
নিউজটি ৬৯ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged